সাইবোল্ডের পাইন্যা সাপ
Ferania sieboldii · Siebold's water snake
📋 এক নজরে পরিচিতি
বেসিক ওয়েব ডাটা🔍 সাইবোল্ডের পাইন্যা সাপ চেনার নিশ্চিত উপায় ও শারীরিক বৈশিষ্ট্য
সারা দেশে পাওয়া যায়না বললেই চলে, তাই প্রচলিত নামেরও প্রচলন নেই। মৃদু বিষধর, মানুষের জন্য একদমই ক্ষতিকর নয়। প্রধানত মাছ খেয়ে থাকে। এছাড়াও ব্যাঙ এবং ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণীও খায়। ও অঞ্চলঃ- রংপুর বিভাগের পুকুর, খাল-বিল, নদী, ধানখেত প্রভৃতি মিঠা পানির পরিবেশে একে দেখতে পাওয়া গিয়েছে কয়েক বার। আপনারা জানলে আনন্দিত হবেন, দেশের প্রথম উদ্ধারকৃত Siebold's water snake আমাদের সংগঠনের। WSRTBD এর সম্মানিত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান ভাই বাংলাদেশ প্রথম এই সাপটা উদ্ধার করেছেন। ২০২১ সালের ৩০ শে অক্টোবর লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের গীরিধারী নদীতে মাছ ধরার জাল থেকে বাংলাদেশে প্রথম বারের মতো সি বোল্ড ওয়াটার স্নেক(siebold's water snake) জীবিত উদ্ধার করেন তিনি। যেটার লাইভ স্পেসিমেন গবেষণার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ভেনম রিসার্চ সেন্টারে রয়েছে। ২০২২ সালের ৩ রা মার্চ একই নদীতেই আবারো মাছ ধরার জালে ঐ প্রজাতির আরো একটি মৃত সাপ উদ্ধার করেছিলাম আমরা। গবেষণার কাজে এই তথ্যটা গোপন ছিলো এতোদিন, তবে এখন আমরা গর্বের সাথে তথ্যটা প্রচার করবো।
📖 বিস্তারিত পরিচিতি ও স্বভাব
Siebold's water snake সাধারণত গাঢ় জলপাই সবুজ এবং বাদামী রঙের সংমিশ্রণে হয়ে থাকে। গাঢ় জলপাই সবুজ রংয়ের দেহের উপর বাদামী বর্ণের অসম এবং অপূর্ণাঙ্গ ব্যন্ড দেখা যায়। ঘাড় থেকে পূর্ণাঙ্গ ব্যান্ড শুরু হলেও কিছুটা নিচ থেকে ব্যান্ডের অপূর্ণতা চোখে পরে। এদের ব্যান্ড গুলো দেহের পাশের দিকে পিঠের তুলনায় বেশ মোটা হয়। এমন রংয়ের ফলে এরা খুব সহজে প্রকৃতিতে মিশে গিয়ে ছদ্মবেশে শিকার করতে পারে। এদের দেহ মাথা এবং লেজের তুলনায় কিছুটা মোটা। লেজের দিকটা হঠাৎ করে শেষ হয়ে গেছে। মাথা চারকোনা আকৃতির এবং ঘাড় থেকে কিছুটা পৃথক হয়ে চ্যাপ্টা আকার ধারণ করেছে। দেহের তুলনায় মাথা ছোট হয়ে থাকে। চোখ ছোট এবং চোখের মনি উলম্বভাবে (Vertically) উপবৃত্তাকার (Elliptical)। তারা রন্ধ্রের এমন আকৃতির ফলে এরা সময় নিয়ে ধীরে ধীরে শিকারের কাছে গিয়ে শিকারকে নিখুঁত ভাবে পর্যবেক্ষণ করে হঠাৎ আক্রমণ করে শিকার কিছু বুঝে ওঠার আগেই। এই পদ্ধতিতে অ্যাম্বুস হান্টিং বলে। এই সাপগুলো আমাদের দেশে প্রাপ্ত বেশিরভাগ সাপের মতো ডিম দেয়না, ফিমেল সাপ সরাসরি বাচ্চা প্রসব করে। যার ফলে এদেরকে viviparous বা জরায়ুজ সাপ বলা হয়। ফিমেল সাপ ৭টি পর্যন্ত ভ্রূণ বহন করে এবং বর্ষা মাসে সন্তান প্রসব করে। এদের ventral area বা পেটের অংশ হলুদাভ হয় এবং dorsal scales বা পিঠের আঁশ চকচকে মসৃণ (Glossy smooth scale). এরা মাঝারি আকারের সাপ, লম্বায় ২ থেকে ২.৫ ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে। Siebold's water snake তার অদ্ভুত রং এর প্যাটার্ণের জন্য অজগর সাপের বাচ্চা এবং বালু বোরা সাপের সাথে অনেকটা মিলে যায়। অনেকেই এই সাপকে অজগর এবং বালুবোরার থেকে পার্থক্য করতে পারেনা। এই সাপের আচরণ একটু রাগী এবং ভয় পেলে কুন্ডলী পাকিয়ে লুকানোর চেষ্টা করে। বেশি বিরক্ত বোধ করলে কামড়ে দিতে পারে।
⚕️ সাইবোল্ডের পাইন্যা সাপ-এর বিষক্রিয়া ও সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা গাইড
সাইবোল্ডের পাইন্যা সাপ রেয়ার ফ্যাং যুক্ত মৃদু বিষধর সাপ। এদের প্রচলিত বিষথলির বিকল্প হিসেবে 'ডুভেরনয়'স ভেনোম গ্লান্ড' নামক পরিবর্তিত বিষথলি থাকে, যেটাতে খুবই কম বিষ সংরক্ষণ এবং উৎপন্ন হয়। ফলে এদের কামড়ে মৃত্যু ঝুকি নেই। কামড়ালে আক্রান্ত স্থান ফুলে যাওয়া, ব্যথা করার মত উপসর্গ দেখা দিতে পারে৷ আক্রান্ত স্থান অ্যান্টিসেপটিক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। এরপর ডাক্তারের পরামর্শে চিকিৎসা নিতে হবে।
🛡️ বাস্তুতন্ত্রে ভূমিকা ও সুরক্ষা বার্তা
লেখা: নাবিদ আল জুবায়ের। ছবি: শাজাহান, সহিদুল ও নাইম ইসলাম
🚨 সাপে কামড়ালে জরুরি করণীয় ও বর্জনীয়
সাপের কামড়ে প্রথম কয়েক মিনিটের সঠিক সিদ্ধান্ত জীবন বাঁচায়। ওঝা-কবিরাজের কুসংস্কার পরিহার করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করুন।
জরুরি করণীয় (অবিলম্বে যা করবেন)
WHO নির্দেশিত বৈজ্ঞানিক প্রাথমিক চিকিৎসা- 🧘রোগীকে শান্ত রাখুন: আতঙ্কিত হলে হৃৎস্পন্দন বাড়ে এবং রক্তে বিষ দ্রুত ছড়ায়। রোগীকে আশ্বস্ত করুন যে অধিকাংশ সাপ নির্বিষ এবং সরকারি অ্যান্টিভেনম সম্পূর্ণ কার্যকর।
- 🪵আক্রান্ত অঙ্গ নিশ্চল রাখুন: হাত বা পায়ের জয়েন্ট একদম বাঁকা করবেন না। কাঠের স্কেল বা বাঁশের চটা ও সুতি কাপড় দিয়ে স্প্লিন্ট তৈরি করে অঙ্গটিকে স্থির করে দিন।
- 💍আংটি ও টাইট পোশাক খুলে ফেলুন: আংটি, চুড়ি, ঘড়ি বা টাইট পোশাক অবিলম্বে খুলে ফেলুন, কারণ সাপের বিষের প্রভাবে অঙ্গটি দ্রুত ফুলে যেতে পারে।
- 🏥দ্রুত সরকারি হাসপাতালে নিন: রোগীকে একা না হাঁটিয়ে অ্যাম্বুলেন্স বা যানবাহনে শুইয়ে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
মারাত্মক বর্জনীয় (ভুলেও যা করবেন না)
প্রচলিত ভুল যা রোগীর মৃত্যুর কারণ হয়- 🚫শক্ত গিট বা টাইট টর্নিকেট বাঁধবেন না: দড়ি বা তার দিয়ে শক্ত করে বাঁধলে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে অঙ্গ পচে গিয়ে কেটে ফেলতে হতে পারে (গ্যাংগ্রিন)।
- 🔪ব্লেড দিয়ে কাটবেন না বা বিষ চুষবেন না: কামড়ের স্থানে ব্লেড বা ছুরি দিয়ে রক্তক্ষরণ করাবেন না। মুখ দিয়ে বিষ চোষা প্রাণঘাতী ঝুঁকি সৃষ্টি করে।
- 🧙ওঝা বা কবিরাজের কাছে যাবেন না: ওঝার কোনো ক্ষমতা নেই সাপের বিষ নষ্ট করার। সময় নষ্ট করাই রোগীর মৃত্যুর মূল কারণ। সরকারি হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়।
- 🧪কোনো ভেষজ রস বা অ্যাসিড দেবেন না: কোনো প্রকার চুনের পানি, গাছের শিকড় বা রাসায়নিক প্রয়োগ করবেন না। শুধুমাত্র পরিষ্কার পানি দিয়ে হালকা ধুয়ে নিন।
আরও অন্যান্য সাপের প্রজাতি দেখুন
লোকালয়ে বা বাড়িতে সাপ দেখলে কী করবেন?
সাপ মারবেন না। আমাদের ৬৪ জেলার ভেরিফায়েড উদ্ধারকারীরা সাপ অক্ষত উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করতে সদা প্রস্তুত।