🟢 সম্পূর্ণ নির্বিষ Non-Venomous

দাঁড়াশ সাপ

Ptyas Mucosa · Indian Rat Snake

🚨 উদ্ধার আবেদন জানান 📞 জরুরি হটলাইন: 16263 🏥 অ্যান্টিভেনম হাসপাতাল
দাঁড়াশ সাপ (Indian Rat Snake)
🟢 সম্পূর্ণ নির্বিষ
দাঁড়াশ সাপ ছবি 2
দাঁড়াশ সাপ ছবি 3

এক নজরে পরিচিতি

বিষের ধরন সম্পূর্ণ নির্বিষ
বৈজ্ঞানিক নাম Ptyas Mucosa
ইংরেজি নাম Indian Rat Snake
প্রধান বাসস্থান ফসলের ক্ষেত, কৃষি জমি, ঝোপঝাড় এবং যেখানে ইঁদুর বেশি থাকে তার আশেপাশের এলাকায় থাকতে পছন্দ করে।

বিবরণ ও পরিচিতি

দাঁড়াশ সাপের প্রিয় খাবার ইঁদুর। তার এই প্রিয় খাদ্যের জন্যে ইংরেজিতে Rat snake নামকরন হয়েছে। দাঁড়াশ সাপ ইঁদুর খেয়ে কৃষকের প্রচুর উপকার করে। দাঁড়াশ সাপ কৃষি জমিতে থাকতে পছন্দ করে এবং যে জমিতে থাকে তার আশপাশে প্রায় ৩ একর এলাকায় ইঁদুর শিকার করে। ফলে ইঁদুরের কারণে প্রতি বছর যে খাদ্যশস্য বিশেষ করে ধান ও গম অন্যান্য ফসলহানী ঘটে তা থেকে রক্ষা মেলে। ওফিওলজির পরিভাষায় এদের দুইটা উপাধি রয়েছে। ১. 'Diurnal' অর্থাৎ দিনের বেলায় চলাচল করে। তারমানে এই না যে রাত্রে চলাচল করেনা। খাদ্যের প্রয়োজনে রাতেও গোয়ালঘরে, বসতঘরে ঢুকে যেতে পারে। ২. 'Semi-arboreal' সেমি আরবোরিয়াল অর্থ ওরা গাছেও থাকতে পারে। সবসময়ই যে গাছে থাকবে তা নয়। তবে গাছেও ভালো চড়তে পারে এবং গাছেও থাকে। এরা গড়ে ৬-৮ বছর বাঁচে। দেশি দাঁড়াশ সাপের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩.৫ মিটার বা ১১-১২ ফুট পর্যন্ত হয়, লেজ সুচালো, লেজের দৈর্ঘ্য দেহের মোট দৈর্ঘ্যের ২৫-২৯%। দেহ লম্বা এবং নলাকার। দেহ হলুদ, হলদে বাদামী, জলপাই বা ধূসর থেকে কালো রঙের, দেহের পিছনের অংশে হালকা বা সুস্পষ্ট ব্যান্ড থাকে। ঠোট ও গলা সাদাটে এবং ঠোটের আঁইশ লম্বা রেখার মাধ্যমে পৃথক। অপ্রাপ্ত বয়স্ক সাপ ঈষৎ জলপাই রঙের এবং দেহের সম্মুখভাগে কালো আড়াআড়ি ব্যান্ড থাকে। ম্যাক্সিলারী দাঁতের সংখ্যা ২৫টি পর্যন্ত হতে পারে। আঁইশ মসৃণ বা উপরের সারির আঁইশ মোটামুটি স্পষ্ট শিরযুক্ত। স্থান ও আবহাওয়া ভেদে এরা ৫/৬ কালারের হয়। দাঁড়াশ সাপ না চেনা থাকলে হঠাৎ করে দেখে গোখরা বলে মনে হতে পারে। কিন্তু গোখরার ফনা আছে, দাঁড়াশ সাপের ফনা নেই এবং ওর গলার কাছটা সরু। দাঁড়াশ সাপ নিয়ে দুটো ভুল বিশ্বাস মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত আছে। তার একটা হচ্ছে দাঁড়াশ সাপের লেজ দিয়ে আঘাত করলে নাকি পচে যায়। আরেকটা ভ্রান্ত ধারণা হলো দাঁড়াশ সাপ নাকি গরুর বাঁট থেকে দুধ খায়। এটা একেবারে ভ্রান্ত ধারণা ও কুসংস্কার। কারণ সাপের চোষন ক্ষমতা নেই, সাপের জিভ দুই ভাগে বিভক্ত, নিচের চোয়ালটা আলগা, দাঁতগুলো পেছনদিকে বাঁকানো, ফুসফুসেও অতো জোর নেই এবং পৃথিবীর সমস্ত সাপ মাংসাশী। ব্যাং, টিকটিকি, ইঁদুর এসব খেয়ে তারা জীবণ ধারণ করে। দুধ সাপের খাদ্য নয়। লেজের মধ্যেও কাটা নেই। স্থানভেদে এদের প্রজননের পার্থক্য হয়। সাধারণত মে-জুন মাসে এদের প্রজননকাল সম্পন্ন হয়। স্ত্রী সাপ মার্চ এবং সেপ্টেম্বর মাসে গুচ্ছে ১২-১৪ টি চকচকে সাদা ডিম পাড়ে। ডিম আঠালো এবং একটির সাথে অপরটি যুক্ত থাকে এবং স্ত্রী সাপ ডিমের উপর কুন্ডলী পাকিয়ে অবস্থান করে। পরিস্ফুটনকাল প্রায় ২ মাস এবং সদ্য পরিস্ফুটিত সাপের দৈর্ঘ্য ৩৬-৪৭ সেমি হয়। অপ্রাপ্ত বয়স্ক সাপ ১ বছরে দ্বিগুণ লম্বা হয় এবং যৌন পরিপক্কতা লাভের জন্য প্রায় ৩ বছর সময় লাগে।

চেনার উপায় ও শারীরিক বৈশিষ্ট্য

দাঁড়াশ, দাড়াইল, ঢ্যামনা, দারাজ, ডারাইস ইত্যাদি। নির্বিষ। ইঁদুর , টিকটিক, ব্যাঙ,পাখির বাচ্চা ,পাখির ডিম ইত্যাদি। সারা বাংলাদেশের সব অঞ্চলেই এদের দেখা মিলে। এজন্য একে বাংলাদেশের আবাসিক সাপ বলে।

বাসস্থান ও স্বভাব

বাসস্থান: ফসলের ক্ষেত, কৃষি জমি, ঝোপঝাড় এবং যেখানে ইঁদুর বেশি থাকে তার আশেপাশের এলাকায় থাকতে পছন্দ করে।

স্বভাব: এরা দিবাচর এবং সেমি-আরবোরিয়াল (গাছে চড়তে পারে)। অত্যন্ত দ্রুতগামী এবং ভয় পেলে বা রেগে গেলে ঘাড় ফুলিয়ে ছোবল মারার চেষ্টা করে।

⚠️ সাপে কামড়ালে জরুরি করণীয় ও বর্জনীয়

  • শান্ত থাকুন: আতঙ্কিত হবেন না, হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখলে বিষ সহজে ছড়ায় না।
  • অঙ্গ নিশ্চল রাখুন: কামড়ের স্থান বা হাত-পা নাড়াচাড়া করবেন না। স্প্লিন্ট দিয়ে স্থির করুন।
  • টাইট বাঁধন দেবেন না: দড়ি বা তার দিয়ে শক্ত গিট দেবেন না, এতে অঙ্গ পচে যেতে পারে।
  • কাটাকাটি নিষেধ: কামড়ের স্থানে ব্লেড বা ছুরি দিয়ে রক্তপাত করাবেন না।
  • ওঝার কাছে যাবেন না: অবিলম্বে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা সদর হাসপাতালে যান।
সম্পূর্ণ ফার্স্ট এইড গাইড পড়ুন →

চিকিৎসা ও অ্যান্টিভেনম তথ্য

যেহেতু নির্বিস সাপ তাই এদের বাইটে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এরা কামড়ালে একদমই বিচলিত হবেন না।
সাপ ও বন্যপ্রাণী - রেসকিউ বিডি
Google Play Google Play থেকে ফ্রি নামান ★ ৪.৯ রেটিং • সম্পূর্ণ বিনামূল্যে