শঙ্খচূড় (King Cobra)
🔴 অতি বিষধর
শঙ্খচূড় ছবি 2
শঙ্খচূড় ছবি 3

এক নজরে পরিচিতি

বিষের ধরন মারাত্মক বিষধর
বৈজ্ঞানিক নাম Ophiophagus hannah
ইংরেজি নাম King Cobra
প্রধান বাসস্থান মিশ্র চিরসবুজ বনাঞ্চল এবং ঘন জঙ্গল (যেমন সিলেট, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সুন্দরবন)।

বিবরণ ও পরিচিতি

রাজ গোখরা, আলত, কালাইন, আইরাজ। এদের জুভেনাইল অর্থাৎ বাচ্চা অবস্থায় কালো দেহে হলুদ ব্যান্ড থাকে। তবে বয়সের সাথে সাথে এদের কালার সাই বর্ণ ধারণ করে। এবং হলুদ ব্যান্ডগুলো সাদা ব্র্যান্ডে পরিণত হয়ে ছোট হয়ে আসে। তবে বাংলাদেশ প্রাপ্ত রাজগোখরা বর্ণ একটু কালচে ধরনের হয়ে থাকে। রাজ গোখরা হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা বিষধর প্রজাতির সাপ। সাধারণত ১২/১৪ ফিট এবং অনেক সময় ১৮/১৯/২০ ফুটের দীর্ঘও হয়ে থাকে। এদের প্রধান খাদ্য হলো সাপ। তবে অন্যান্য ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী, ব্যাঙ, গিরগিটি ইত্যাদি খাদ্য তালিকায় রয়েছে। এদের বসবাস মূলত এশিয়া মহাদেশের দেশগুলোতে যেমন ভারত, বাংলাদেশ, চীন, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, লাওস, মালয়েশিয়া, ভুটান, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইনে এদের দেখতে পাওয়া যায়। আমাদের দেশে সিলেট, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, সুন্দবনাঞ্চলে এদের দেখতে পাওয়া যায়। রিসেন্টলি গতমাসেই চট্টগ্রাম হাটহাজারী নামক এলাকা এবং তার ক'দিন পরেই কক্সবাজারের একটি রিসোর্ট থেকে পর পর দুটি কিং কোবরা উদ্ধার করা হয়। এরা অভিপ্যারোস প্রকৃতির সাপ। অর্থাৎ মা সাপ ডিম পেরে বাচ্চা উৎপাদন করে। প্রজননকালে এরা একটু এগ্রেসিভ থাকে। ডিম পাড়ার সময়ে এরা পাতার ডিবিতে ডিম পাড়ে এবং মা সাপ ২ মাস ধরে সে ডিম পাহাড়া দিয়ে বাচ্চা ফুটায়। লেখা: Farhad Asif

চেনার উপায় ও শারীরিক বৈশিষ্ট্য

King Cobra বা শঙ্খচূড় বা রাজগোখরা Elapidae পরিবারের Ophiophagus গণের এবং পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘতম বিষধর সাপের প্রজাতি। যদিও ইতিমধ্যে এদের আরো কিছু প্রজাতির বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এরা লম্বায় প্রায় ১৯/২০ ফুট দৈর্ঘ্যেরও হতে পারে। বন্যপ্রাণী আইন ২০১২ অনুযায়ী বাংলাদেশে এই সাপটি সংরক্ষিত। এশিয়া মহাদেশে প্রাপ্ত তীব্র বিষধর প্রজাতির সাপগুলোর মধ্যে কিং কোবরা অন্যতম। এদের বিষমূলত নিউরোটক্সিন। তবে এতে সাইটোটক্সিনও মিশ্রিত আছে। এরা এক কামড়ে প্রায় 420mg বিষ প্রয়োগ করতে পারে। LD50 পরীক্ষায় এদের বিষের মাত্রা 1.5 - 1.7 mg/kg। এদের একটি ছোবল পূর্ণবয়স্ক বিশাল হাতিকেও মেরে ফেলার জন্য যথেষ্ট। কিং কোবরা সাপেরা মূলত দিবাচর প্রকৃতির। এরা দিনের বেলাতেই শিকার করতে পছন্দ করে। তবে কিছু ক্ষেত্রে রাতেও এদের সক্রিয় থাকতে দেখা যায়। এরা প্রায় ৩৩০ ফুট দূর থেকেও মাটিতে শিকারের নড়াচড়ার কম্পন শনাক্ত করতে পারে।

বাসস্থান ও স্বভাব

বাসস্থান: মিশ্র চিরসবুজ বনাঞ্চল এবং ঘন জঙ্গল (যেমন সিলেট, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সুন্দরবন)।

স্বভাব: দিবাচর প্রকৃতির এবং মূলত অন্যান্য সাপ শিকার করে; প্রজননকালে মা সাপ পাতার ঢিবি তৈরি করে ডিম পাহারা দেয়।

⚠️ সাপে কামড়ালে জরুরি করণীয় ও বর্জনীয়

  • শান্ত থাকুন: আতঙ্কিত হবেন না, হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখলে বিষ সহজে ছড়ায় না।
  • অঙ্গ নিশ্চল রাখুন: কামড়ের স্থান বা হাত-পা নাড়াচাড়া করবেন না। স্প্লিন্ট দিয়ে স্থির করুন।
  • টাইট বাঁধন দেবেন না: দড়ি বা তার দিয়ে শক্ত গিট দেবেন না, এতে অঙ্গ পচে যেতে পারে।
  • কাটাকাটি নিষেধ: কামড়ের স্থানে ব্লেড বা ছুরি দিয়ে রক্তপাত করাবেন না।
  • ওঝার কাছে যাবেন না: অবিলম্বে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা সদর হাসপাতালে যান।
সম্পূর্ণ ফার্স্ট এইড গাইড পড়ুন →
সাপ ও বন্যপ্রাণী - রেসকিউ বিডি
Google Play Google Play থেকে ফ্রি নামান ★ ৪.৯ রেটিং • সম্পূর্ণ বিনামূল্যে