পপের লাল ফিতে সবুজ বোড়া
Trimeresurus popeiorum · Pope's pit viper
📋 এক নজরে পরিচিতি
বেসিক ওয়েব ডাটা🔍 পপের লাল ফিতে সবুজ বোড়া চেনার নিশ্চিত উপায় ও শারীরিক বৈশিষ্ট্য
Viperidae পরিবারের দেশের সবচেয়ে বিরল প্রজাতির সাপ 'পপের লাল ফিতে সবুজ বোড়া'। পিট ভাইপার প্রজাতির এই সাপটির বিস্তার ভারত, বাংলাদেশ, নেপালসহ সাউথ-ইস্ট এশিয়ার দেশসমূহ। Pit Viper হেমোটক্সিন (Hemotoxin) সমৃদ্ধ বিষধর সাপ। হেমোটক্সিন রক্তের লোহিত রক্তকণিকা নষ্ট করে। ফলে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে না, আভ্যন্তরীণ রক্তপাত হয়। Pope's দের আলাদা করে চেনার উপায় হলো শুধু এদের চোখ৷ যদি কোনো গ্রীণ পিট ভাইপারের চোখ লাল দেখা যায় তাহলে সেটা Pope's pit viper.
📖 বিস্তারিত পরিচিতি ও স্বভাব
এদের মাথা ত্রিকোনাকৃতির ও চ্যাপ্টা। মাথা থেকে ঘার চিকন। পিট ভাইপার নিশাচর গাছের সাপ। এরা সচরাচর গাছে থাকে। পোপ'স পিট ভাইপার সেক্সুয়ালি ডায়ামর্ফিক সাপ। অর্থাৎ এদের নারী এবং পুরুষ সাপ বাহ্যিকভাবে আলাদা। পুরুষ সাপের দেহে দুই স্তরের ভেন্ট্রোল্যাটেরাল স্ট্রাইপ থাকে। উপরের স্তর সাদা এবং নিচের স্তর লাল বা কমলা রঙের হয়ে থাকে। কিন্ত নারী সাপের ক্ষেত্রে সেটা শুধুমাত্র সাদা হয়ে থাকে। এরা Ovoviviparous, অর্থাৎ ডিম না পেড়ে তা পেটের মধ্যে ডিম্বক নালীতে রেখে দেয়। পরবর্তীতে অনিষিক্ত ডিমসহ বাচ্চা প্রসব করে।
🌿 বাসস্থান, বিস্তৃতি ও খাদ্যাভ্যাস
পাহাড়ি বনাঞ্চল, ঘন ঝোপঝাড় এবং গাছের ডালপালা।
বাংলাদেশের পাহাড়ি বনভূমি ও চিরসবুজ বনাঞ্চল।
নিশাচর ও বৃক্ষবাসী; তাপ-সংবেদী পিট ব্যবহার করে রাতে উষ্ণ রক্তধারী শিকার ধরে এবং সরাসরি বাচ্চা দেয়।
🛡️ বাস্তুতন্ত্রে ভূমিকা ও সুরক্ষা বার্তা
যেসব ভাইপারের পিট (Pit) থাকে, তাদেরই পিট ভাইপার বলা হয়। পিট (Pit) মানে গর্ত বা ছিদ্র। পিট ভাইপারের মাথার উভয়পাশে চোখ ও নাকের মাঝামাঝি একটি করে পিট বা গর্ত থাকে। এই পিটগুলোতে মূলত তাপ সংবেদী রিসিপটর থাকে, যা দ্বারা তারা উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণীর শরীর থেকে আসা Infrared থার্মাল রেডিয়েশন সনাক্ত করতে পারে। এতে তারা রাতেও শিকার করতে পারে। এদের কামড়ে সাধারণত মানুষ মারা যায় না। তবে সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না নিলে আক্রান্ত অঙ্গের মাংস পঁচে যাওয়া থেকে নিয়ে অঙ্গহানি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু ভালো ব্যাপার হচ্ছে এদের কামড়ের চিকিৎসা অ্যান্টিভেনম ছাড়াই সম্পন্ন করা যায়। লেখা: ফেরদৌস আলম ছবি: Wild wander ও সংগৃহীত।
🚨 সাপে কামড়ালে জরুরি করণীয় ও বর্জনীয়
সাপের কামড়ে প্রথম কয়েক মিনিটের সঠিক সিদ্ধান্ত জীবন বাঁচায়। ওঝা-কবিরাজের কুসংস্কার পরিহার করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করুন।
জরুরি করণীয় (অবিলম্বে যা করবেন)
WHO নির্দেশিত বৈজ্ঞানিক প্রাথমিক চিকিৎসা- 🧘রোগীকে শান্ত রাখুন: আতঙ্কিত হলে হৃৎস্পন্দন বাড়ে এবং রক্তে বিষ দ্রুত ছড়ায়। রোগীকে আশ্বস্ত করুন যে অধিকাংশ সাপ নির্বিষ এবং সরকারি অ্যান্টিভেনম সম্পূর্ণ কার্যকর।
- 🪵আক্রান্ত অঙ্গ নিশ্চল রাখুন: হাত বা পায়ের জয়েন্ট একদম বাঁকা করবেন না। কাঠের স্কেল বা বাঁশের চটা ও সুতি কাপড় দিয়ে স্প্লিন্ট তৈরি করে অঙ্গটিকে স্থির করে দিন।
- 💍আংটি ও টাইট পোশাক খুলে ফেলুন: আংটি, চুড়ি, ঘড়ি বা টাইট পোশাক অবিলম্বে খুলে ফেলুন, কারণ সাপের বিষের প্রভাবে অঙ্গটি দ্রুত ফুলে যেতে পারে।
- 🏥দ্রুত সরকারি হাসপাতালে নিন: রোগীকে একা না হাঁটিয়ে অ্যাম্বুলেন্স বা যানবাহনে শুইয়ে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
মারাত্মক বর্জনীয় (ভুলেও যা করবেন না)
প্রচলিত ভুল যা রোগীর মৃত্যুর কারণ হয়- 🚫শক্ত গিট বা টাইট টর্নিকেট বাঁধবেন না: দড়ি বা তার দিয়ে শক্ত করে বাঁধলে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে অঙ্গ পচে গিয়ে কেটে ফেলতে হতে পারে (গ্যাংগ্রিন)।
- 🔪ব্লেড দিয়ে কাটবেন না বা বিষ চুষবেন না: কামড়ের স্থানে ব্লেড বা ছুরি দিয়ে রক্তক্ষরণ করাবেন না। মুখ দিয়ে বিষ চোষা প্রাণঘাতী ঝুঁকি সৃষ্টি করে।
- 🧙ওঝা বা কবিরাজের কাছে যাবেন না: ওঝার কোনো ক্ষমতা নেই সাপের বিষ নষ্ট করার। সময় নষ্ট করাই রোগীর মৃত্যুর মূল কারণ। সরকারি হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়।
- 🧪কোনো ভেষজ রস বা অ্যাসিড দেবেন না: কোনো প্রকার চুনের পানি, গাছের শিকড় বা রাসায়নিক প্রয়োগ করবেন না। শুধুমাত্র পরিষ্কার পানি দিয়ে হালকা ধুয়ে নিন।
আরও অন্যান্য সাপের প্রজাতি দেখুন
লোকালয়ে বা বাড়িতে সাপ দেখলে কী করবেন?
সাপ মারবেন না। আমাদের ৬৪ জেলার ভেরিফায়েড উদ্ধারকারীরা সাপ অক্ষত উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করতে সদা প্রস্তুত।