ম্যাকক্লেল্যান্ডের প্রবাল সাপ
Sinomicrurus macclellandi · MacClelland's coral snake
📋 এক নজরে পরিচিতি
বেসিক ওয়েব ডাটা🔍 ম্যাকক্লেল্যান্ডের প্রবাল সাপ চেনার নিশ্চিত উপায় ও শারীরিক বৈশিষ্ট্য
Neurotoxin.এর প্রভাবে নার্ভ ড্যামেজ হয়ে যায়। ছোট সরীসৃপ, গিরগিটি,সাপ। ও অঞ্চলঃ- বাংলাদেশ,ভারত,ভুটান,মায়ানমার, থাইল্যান্ড,ভিয়েতনাম,তাইওয়ান এইসব দেশে পাওয়া যায়।
📖 বিস্তারিত পরিচিতি ও স্বভাব
ম্যাক্লেল্যান্ডে'র প্রবাল সাপগুলো লম্বায় ৪০-৮০ সেন্টিমিটার বা ১.৫ ফুট থেকে সর্বোচ্চ ৩ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এদের ডরসাল বডি লালচে-বাদামী ধরনের হয়। এবং ডর্সাল বডি মশৃণ আঁশযুক্ত (Smooth scales)। দেহে কালো রঙের চিকন ব্যান্ড থাকে। এদের মাথা ছোট এবং গোলাকার। মাথার রঙ কালো।মুখের সামনে সাদা। মাথায় সাদা রঙের একটি ব্যান্ড থাকে।পেটের রঙ ফ্যাকাশে হলুদ সাথে কালো দাগ থাকে।এরা Oviparous। মা সাপ ৬-১৪ টি ডিম পাড়ে ও ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়।এরা Nocturnal অর্থাৎ রাতে শিকার করে।
🌿 বাসস্থান, বিস্তৃতি ও খাদ্যাভ্যাস
মাটির নিচে, বনের শুকনো পাতার স্তূপের নিচে এবং পাহাড়ি বনাঞ্চল।
বাংলাদেশের পাহাড়ি বনাঞ্চল এবং সিলেট-চট্টগ্রামের বনভূমি এলাকা।
নিশাচর এবং লাজুক স্বভাবের; দিনের বেলা মাটির নিচে বা পাতার নিচে লুকিয়ে থাকে।
⚕️ ম্যাকক্লেল্যান্ডের প্রবাল সাপ-এর বিষক্রিয়া ও সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা গাইড
এরা বিষধর হলেও শান্ত।যদি কামড় দেয়,তাহলে দ্রুত নিকটস্থ সদর হাসপাতাল অথবা সরকারি মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যেতে হবে।
🛡️ বাস্তুতন্ত্রে ভূমিকা ও সুরক্ষা বার্তা
বিষক্রিয়ার লক্ষনঃ- Macclelland's Coral snake কামড় দিলে টোসিস বা শিবনেত্র, নেক ব্যান্ড বা ঘাড় বেঁকে যাবে, নিশ্বাস নিতে অসুবিধা হবে, কথা বলতে বা চোখে দেখতেও অসুবিধা হবে। কানে স্বাভাবিকের চেয়ে কম শোনা যাবে। ঘুম ঘুম ভাব আসবে, মুখের পেশি অসাড় হয়ে যাবে, কোনোকিছু চিবাতে না পারা, বুকে ব্যথা,রোগি কাউকে চিনতে পারবে না,এমনকি আপন মা-বাবাকেও নাহ। লেখা: সাঈদা বিনতে হোসাইন ছবি: Lal Muan Sanga, Rupert, Rohit Giri
🚨 সাপে কামড়ালে জরুরি করণীয় ও বর্জনীয়
সাপের কামড়ে প্রথম কয়েক মিনিটের সঠিক সিদ্ধান্ত জীবন বাঁচায়। ওঝা-কবিরাজের কুসংস্কার পরিহার করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করুন।
জরুরি করণীয় (অবিলম্বে যা করবেন)
WHO নির্দেশিত বৈজ্ঞানিক প্রাথমিক চিকিৎসা- 🧘রোগীকে শান্ত রাখুন: আতঙ্কিত হলে হৃৎস্পন্দন বাড়ে এবং রক্তে বিষ দ্রুত ছড়ায়। রোগীকে আশ্বস্ত করুন যে অধিকাংশ সাপ নির্বিষ এবং সরকারি অ্যান্টিভেনম সম্পূর্ণ কার্যকর।
- 🪵আক্রান্ত অঙ্গ নিশ্চল রাখুন: হাত বা পায়ের জয়েন্ট একদম বাঁকা করবেন না। কাঠের স্কেল বা বাঁশের চটা ও সুতি কাপড় দিয়ে স্প্লিন্ট তৈরি করে অঙ্গটিকে স্থির করে দিন।
- 💍আংটি ও টাইট পোশাক খুলে ফেলুন: আংটি, চুড়ি, ঘড়ি বা টাইট পোশাক অবিলম্বে খুলে ফেলুন, কারণ সাপের বিষের প্রভাবে অঙ্গটি দ্রুত ফুলে যেতে পারে।
- 🏥দ্রুত সরকারি হাসপাতালে নিন: রোগীকে একা না হাঁটিয়ে অ্যাম্বুলেন্স বা যানবাহনে শুইয়ে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
মারাত্মক বর্জনীয় (ভুলেও যা করবেন না)
প্রচলিত ভুল যা রোগীর মৃত্যুর কারণ হয়- 🚫শক্ত গিট বা টাইট টর্নিকেট বাঁধবেন না: দড়ি বা তার দিয়ে শক্ত করে বাঁধলে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে অঙ্গ পচে গিয়ে কেটে ফেলতে হতে পারে (গ্যাংগ্রিন)।
- 🔪ব্লেড দিয়ে কাটবেন না বা বিষ চুষবেন না: কামড়ের স্থানে ব্লেড বা ছুরি দিয়ে রক্তক্ষরণ করাবেন না। মুখ দিয়ে বিষ চোষা প্রাণঘাতী ঝুঁকি সৃষ্টি করে।
- 🧙ওঝা বা কবিরাজের কাছে যাবেন না: ওঝার কোনো ক্ষমতা নেই সাপের বিষ নষ্ট করার। সময় নষ্ট করাই রোগীর মৃত্যুর মূল কারণ। সরকারি হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়।
- 🧪কোনো ভেষজ রস বা অ্যাসিড দেবেন না: কোনো প্রকার চুনের পানি, গাছের শিকড় বা রাসায়নিক প্রয়োগ করবেন না। শুধুমাত্র পরিষ্কার পানি দিয়ে হালকা ধুয়ে নিন।
আরও অন্যান্য সাপের প্রজাতি দেখুন
লোকালয়ে বা বাড়িতে সাপ দেখলে কী করবেন?
সাপ মারবেন না। আমাদের ৬৪ জেলার ভেরিফায়েড উদ্ধারকারীরা সাপ অক্ষত উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করতে সদা প্রস্তুত।