জের্ডনের দুমুখো সাপ
Indotyphlops jerdoni · Jerdon’s Blind Snake
📋 এক নজরে পরিচিতি
বেসিক ওয়েব ডাটা🔍 জের্ডনের দুমুখো সাপ চেনার নিশ্চিত উপায় ও শারীরিক বৈশিষ্ট্য
এর নাম জর্ডানের দুমুখো সাপ। ব্রিটিশ জীববিজ্ঞানী থমাস সি. জার্ডনের সম্মানে প্রজাতিটির নামকরণ করা হয়েছে। Non-venomous/নির্বিষ। পুঁয়ে সাপের প্রধান খাদ্য পিঁপড়া ও ছোট উইপোকা। এছাড়া পিঁপড়ার ডিম ও লার্ভা, পিউপা এবং বিভিন্ন প্রজাতির অমেরুদণ্ডী প্রাণী ইত্যাদি খেয়ে থাকে।
📖 বিস্তারিত পরিচিতি ও স্বভাব
পুঁয়ে সাপ জীবনের বেশিরভাগ সময়ই মাটির নিচে বাস করে। ভেজা মাটি, রেইনফরেস্ট, চাষের খেত এদের পছন্দের আসাবস্থল। অনেক সময় বৃষ্টির পর মাটির উপরে উঠে আসে। এছাড়া এরা ফুলের টব, স্যাতস্যাতে মাটি, জঞ্জাল, মাটির স্তুপে, পিপড়া ও উইঁয়ের বাসা, কাটা গাছের গুঁড়িতে, পঁচা পাতার নিচে, ইটের নিচে, ভেজা মাটিতে মিশে যাওয়া দালানকোঠার ফাঁকে ও মাটির হিউমাসের নিচে জীবন অতিবাহিত করে। এরা সাধারণত অন্ধকার জায়গায় থাকতে পছন্দ করে, আলো দেখলেই লুকিয়ে পরে। এদের জীবন অনেকটাই মাটির আর্দ্রতার উপর নির্ভর করে।
🌿 বাসস্থান, বিস্তৃতি ও খাদ্যাভ্যাস
মাটির নিচে, ঝরাপাতার নিচে ও স্যাঁতসেঁতে নরম মাটি।
বাংলাদেশের বিভিন্ন বনাঞ্চল ও গ্রামাঞ্চল।
নিশাচর; জীবনের বেশিরভাগ সময় মাটির নিচে অন্ধকার স্থানে কাটায়।
🛡️ বাস্তুতন্ত্রে ভূমিকা ও সুরক্ষা বার্তা
এদের দেহ দেখতে কিছুটা কেঁচোর মতো হলেও এরা কেঁচোর মতো নরম না, হাড়-মাংসের প্রাণী এরা। নলাকার দেহের প্রাণীটি নিশাচর এবং এদের গড় দৈর্ঘ্য ২৫.৩ সে.মি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এদের দেহের উপরিভাগের রং গাঢ় বাদামী অথবা কুচকুচে কালো হয় এবং পেটের অংশ হালকা বাদামী। জর্ডানের দুমুখো সাপ oviparous পদ্ধতিতে বংশবিস্তার করে। (oviparous হচ্ছে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সাপেরা ডিম দেয়, পরে ডিম ফুটে বাচ্চা বেরিয়ে আসে।) তথ্য: আরেফিন নাবিল ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত।
🚨 সাপে কামড়ালে জরুরি করণীয় ও বর্জনীয়
সাপের কামড়ে প্রথম কয়েক মিনিটের সঠিক সিদ্ধান্ত জীবন বাঁচায়। ওঝা-কবিরাজের কুসংস্কার পরিহার করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করুন।
জরুরি করণীয় (অবিলম্বে যা করবেন)
WHO নির্দেশিত বৈজ্ঞানিক প্রাথমিক চিকিৎসা- 🧘রোগীকে শান্ত রাখুন: আতঙ্কিত হলে হৃৎস্পন্দন বাড়ে এবং রক্তে বিষ দ্রুত ছড়ায়। রোগীকে আশ্বস্ত করুন যে অধিকাংশ সাপ নির্বিষ এবং সরকারি অ্যান্টিভেনম সম্পূর্ণ কার্যকর।
- 🪵আক্রান্ত অঙ্গ নিশ্চল রাখুন: হাত বা পায়ের জয়েন্ট একদম বাঁকা করবেন না। কাঠের স্কেল বা বাঁশের চটা ও সুতি কাপড় দিয়ে স্প্লিন্ট তৈরি করে অঙ্গটিকে স্থির করে দিন।
- 💍আংটি ও টাইট পোশাক খুলে ফেলুন: আংটি, চুড়ি, ঘড়ি বা টাইট পোশাক অবিলম্বে খুলে ফেলুন, কারণ সাপের বিষের প্রভাবে অঙ্গটি দ্রুত ফুলে যেতে পারে।
- 🏥দ্রুত সরকারি হাসপাতালে নিন: রোগীকে একা না হাঁটিয়ে অ্যাম্বুলেন্স বা যানবাহনে শুইয়ে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
মারাত্মক বর্জনীয় (ভুলেও যা করবেন না)
প্রচলিত ভুল যা রোগীর মৃত্যুর কারণ হয়- 🚫শক্ত গিট বা টাইট টর্নিকেট বাঁধবেন না: দড়ি বা তার দিয়ে শক্ত করে বাঁধলে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে অঙ্গ পচে গিয়ে কেটে ফেলতে হতে পারে (গ্যাংগ্রিন)।
- 🔪ব্লেড দিয়ে কাটবেন না বা বিষ চুষবেন না: কামড়ের স্থানে ব্লেড বা ছুরি দিয়ে রক্তক্ষরণ করাবেন না। মুখ দিয়ে বিষ চোষা প্রাণঘাতী ঝুঁকি সৃষ্টি করে।
- 🧙ওঝা বা কবিরাজের কাছে যাবেন না: ওঝার কোনো ক্ষমতা নেই সাপের বিষ নষ্ট করার। সময় নষ্ট করাই রোগীর মৃত্যুর মূল কারণ। সরকারি হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়।
- 🧪কোনো ভেষজ রস বা অ্যাসিড দেবেন না: কোনো প্রকার চুনের পানি, গাছের শিকড় বা রাসায়নিক প্রয়োগ করবেন না। শুধুমাত্র পরিষ্কার পানি দিয়ে হালকা ধুয়ে নিন।
আরও অন্যান্য সাপের প্রজাতি দেখুন
লোকালয়ে বা বাড়িতে সাপ দেখলে কী করবেন?
সাপ মারবেন না। আমাদের ৬৪ জেলার ভেরিফায়েড উদ্ধারকারীরা সাপ অক্ষত উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করতে সদা প্রস্তুত।