ডায়ার্ডের দুমুখো সাপ
Typhlops diardii · Diard's blind snake
📋 এক নজরে পরিচিতি
বেসিক ওয়েব ডাটা🔍 ডায়ার্ডের দুমুখো সাপ চেনার নিশ্চিত উপায় ও শারীরিক বৈশিষ্ট্য
অন্যান্য নাম: দীর্ঘ দুমুখো সাপ, দীর্ঘ কৃমি সাপ, ইন্দোচীনা দুমুখো সাপ । এর নাম ডায়ার্ডের দুমুখো সাপ মূলত ফরাসি প্রকৃতিবিদ পিয়েরে-মেদার্দ ডায়ার্ড (Pierre-Médard Diard) এর সম্মানার্থে রাখা হয়েছে। Non-venomous/নির্বিষ। পুঁয়ে সাপের প্রধান খাদ্য পিঁপড়া ও ছোট উইপোকা। এছাড়া পিঁপড়ার ডিম ও লার্ভা, পিউপা এবং বিভিন্ন প্রজাতির অমেরুদণ্ডী প্রাণী ইত্যাদি খেয়ে থাকে।
📖 বিস্তারিত পরিচিতি ও স্বভাব
আফ্রিকা এবং এশিয়ায় এদের আদি নিবাস। ভারতীয় উপমহাদেশ সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে সহসা-ই এদের দেখতে পাওয়া যায়। তবে অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা এবং ওশেনিয়া সহ বিশ্বের অনেক অংশে এর বিভিন্ন প্রজাতি পাওয়া যায়। অর্থাৎ গ্রীষ্ণমন্ডলীয় দেশ গুলোতে এ সাপের বিস্তৃতি বেশি। এছাড়াও সমুদ্রতল থেকে ৬৫০-১০০০ মিটার পর্যন্ত উঁচুতেও এদের দেখা যায়। ব্রাহ্মিনী ব্লাইন্ড স্নেক একমাত্র সাপ, যেটা এন্টার্কটিকা বাদে বিশ্বের সব মহাদেশেই পাওয়া যায়। বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলেই কম-বেশি এদের পাওয়া যায়। সাধারণত, গ্রাম অঞ্চল এবং ক্ষেত খামারে বেশি দেখতে পাওয়া যায়। তবে শহুরে এবং কৃষি এলাকায়ও আনাগোনা করে। পুঁয়ে সাপ জীবনের বেশিরভাগ সময়ই মাটির নিচে বাস করে। ভেজা মাটি, রেইনফরেস্ট, চাষের খেত এদের পছন্দের আসাবস্থল। অনেক সময় বৃষ্টির পর মাটির উপরে উঠে আসে। এছাড়া এরা ফুলের টব, স্যাতস্যাতে মাটি, জঞ্জাল, মাটির স্তুপে, পিপড়া ও উইঁয়ের বাসা, কাটা গাছের গুঁড়িতে, পঁচা পাতার নিচে, ইটের নিচে, ভেজা মাটিতে মিশে যাওয়া দালানকোঠার ফাঁকে ও মাটির হিউমাসের নিচে জীবন অতিবাহিত করে। এরা সাধারণত অন্ধকার জায়গায় থাকতে পছন্দ করে, আলো দেখলেই লুকিয়ে পরে। এদের জীবন অনেকটাই মাটির আর্দ্রতার উপর নির্ভর করে। এদের দেহ সাধারণত কালচে বাদামি রঙের হয়ে থাকে। পেটের রঙ হালকা বাদামি। লেজ সুচালো। এরা সর্বোচ্চ ৪৫ সে:মি:/১৬ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এটা বাংলাদেশে প্রাপ্ত চার জাতের ব্লাইন্ড স্নেকের মধ্যে সবচেয়ে বড় । ডায়ার্ড'স দুমুখো সাপও নিশাচর (Nocturnal)। অর্থাৎ এরা সাধারণত রাতে চলাচল এবং শিকার করে।
🌿 বাসস্থান, বিস্তৃতি ও খাদ্যাভ্যাস
স্যাঁতসেঁতে মাটি, ফুলের টব, বনের ঝরাপাতা ও মাটির নিচে।
বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলের বনাঞ্চল ও স্যাঁতসেঁতে এলাকা।
নিশাচর; মাটির নিচে সুড়ঙ্গ তৈরি করে বাস করে এবং সরাসরি বাচ্চা দেয়।
🛡️ বাস্তুতন্ত্রে ভূমিকা ও সুরক্ষা বার্তা
ডায়ার্ডের দুমুখো সাপ ovoviviparous পদ্ধতিতে বংশবিস্তার করে। (Ovoviviparous বলতে এমন একটি প্রজনন প্রক্রিয়া বোঝায় যেখানে প্রাণী ডিম পাড়ে না; বরং ডিমটি মায়ের দেহের ভেতরেই থাকে এবং সেখানে ভ্রূণের বৃদ্ধি ঘটে। ডিমের ভেতর ভ্রূণ পুষ্টি গ্রহণ করে এবং যখন এটি সম্পূর্ণ বিকশিত হয়, তখন এটি মা থেকে জীবন্ত বাচ্চা হিসেবে বের হয়। এই প্রক্রিয়ায়, ডিম থেকে নিষেকিত ভ্রূণ মায়ের শরীরের ভিতরে থাকে কিন্তু মায়ের কাছ থেকে সরাসরি পুষ্টি গ্রহণ করে না। পুষ্টি সাধারণত ডিমের ভেতরের খাদ্য থেকে আসে) তথ্য: আরেফিন নাবিল ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত।
🚨 সাপে কামড়ালে জরুরি করণীয় ও বর্জনীয়
সাপের কামড়ে প্রথম কয়েক মিনিটের সঠিক সিদ্ধান্ত জীবন বাঁচায়। ওঝা-কবিরাজের কুসংস্কার পরিহার করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করুন।
জরুরি করণীয় (অবিলম্বে যা করবেন)
WHO নির্দেশিত বৈজ্ঞানিক প্রাথমিক চিকিৎসা- 🧘রোগীকে শান্ত রাখুন: আতঙ্কিত হলে হৃৎস্পন্দন বাড়ে এবং রক্তে বিষ দ্রুত ছড়ায়। রোগীকে আশ্বস্ত করুন যে অধিকাংশ সাপ নির্বিষ এবং সরকারি অ্যান্টিভেনম সম্পূর্ণ কার্যকর।
- 🪵আক্রান্ত অঙ্গ নিশ্চল রাখুন: হাত বা পায়ের জয়েন্ট একদম বাঁকা করবেন না। কাঠের স্কেল বা বাঁশের চটা ও সুতি কাপড় দিয়ে স্প্লিন্ট তৈরি করে অঙ্গটিকে স্থির করে দিন।
- 💍আংটি ও টাইট পোশাক খুলে ফেলুন: আংটি, চুড়ি, ঘড়ি বা টাইট পোশাক অবিলম্বে খুলে ফেলুন, কারণ সাপের বিষের প্রভাবে অঙ্গটি দ্রুত ফুলে যেতে পারে।
- 🏥দ্রুত সরকারি হাসপাতালে নিন: রোগীকে একা না হাঁটিয়ে অ্যাম্বুলেন্স বা যানবাহনে শুইয়ে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
মারাত্মক বর্জনীয় (ভুলেও যা করবেন না)
প্রচলিত ভুল যা রোগীর মৃত্যুর কারণ হয়- 🚫শক্ত গিট বা টাইট টর্নিকেট বাঁধবেন না: দড়ি বা তার দিয়ে শক্ত করে বাঁধলে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে অঙ্গ পচে গিয়ে কেটে ফেলতে হতে পারে (গ্যাংগ্রিন)।
- 🔪ব্লেড দিয়ে কাটবেন না বা বিষ চুষবেন না: কামড়ের স্থানে ব্লেড বা ছুরি দিয়ে রক্তক্ষরণ করাবেন না। মুখ দিয়ে বিষ চোষা প্রাণঘাতী ঝুঁকি সৃষ্টি করে।
- 🧙ওঝা বা কবিরাজের কাছে যাবেন না: ওঝার কোনো ক্ষমতা নেই সাপের বিষ নষ্ট করার। সময় নষ্ট করাই রোগীর মৃত্যুর মূল কারণ। সরকারি হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়।
- 🧪কোনো ভেষজ রস বা অ্যাসিড দেবেন না: কোনো প্রকার চুনের পানি, গাছের শিকড় বা রাসায়নিক প্রয়োগ করবেন না। শুধুমাত্র পরিষ্কার পানি দিয়ে হালকা ধুয়ে নিন।
আরও অন্যান্য সাপের প্রজাতি দেখুন
লোকালয়ে বা বাড়িতে সাপ দেখলে কী করবেন?
সাপ মারবেন না। আমাদের ৬৪ জেলার ভেরিফায়েড উদ্ধারকারীরা সাপ অক্ষত উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করতে সদা প্রস্তুত।