বিবরণ ও পরিচিতি
আফ্রিকা এবং এশিয়ায় এদের আদি নিবাস। ভারতীয় উপমহাদেশ সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে সহসা-ই এদের দেখতে পাওয়া যায়। তবে অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা এবং ওশেনিয়া সহ বিশ্বের অনেক অংশে এর বিভিন্ন প্রজাতি পাওয়া যায়। অর্থাৎ গ্রীষ্ণমন্ডলীয় দেশ গুলোতে এ সাপের বিস্তৃতি বেশি। এছাড়াও সমুদ্রতল থেকে ৬৫০-১০০০ মিটার পর্যন্ত উঁচুতেও এদের দেখা যায়। ব্রাহ্মিনী ব্লাইন্ড স্নেক একমাত্র সাপ, যেটা এন্টার্কটিকা বাদে বিশ্বের সব মহাদেশেই পাওয়া যায়। বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলেই কম-বেশি এদের পাওয়া যায়। সাধারণত, গ্রাম অঞ্চল এবং ক্ষেত খামারে বেশি দেখতে পাওয়া যায়। তবে শহুরে এবং কৃষি এলাকায়ও আনাগোনা করে। পুঁয়ে সাপ জীবনের বেশিরভাগ সময়ই মাটির নিচে বাস করে। ভেজা মাটি, রেইনফরেস্ট, চাষের খেত এদের পছন্দের আসাবস্থল। অনেক সময় বৃষ্টির পর মাটির উপরে উঠে আসে। এছাড়া এরা ফুলের টব, স্যাতস্যাতে মাটি, জঞ্জাল, মাটির স্তুপে, পিপড়া ও উইঁয়ের বাসা, কাটা গাছের গুঁড়িতে, পঁচা পাতার নিচে, ইটের নিচে, ভেজা মাটিতে মিশে যাওয়া দালানকোঠার ফাঁকে ও মাটির হিউমাসের নিচে জীবন অতিবাহিত করে। এরা সাধারণত অন্ধকার জায়গায় থাকতে পছন্দ করে, আলো দেখলেই লুকিয়ে পরে। এদের জীবন অনেকটাই মাটির আর্দ্রতার উপর নির্ভর করে। ব্রাহ্মণী দুমুখো সাপ দেখতে কেঁচোর মতো হলেও, এদের নলাকার শরীর কেঁচোর মতো খণ্ড খণ্ড থাকে না। এরা সাধারনত দৈর্ঘ্যে ১০ থেকে ১৭ সেন্টিমিটার হয়। সর্বোচ্চ ২৩ সে.মি. পর্যন্ত হতে পারে। নবজাতক প্রায় ৫ সে.মি. হয়। এদের ত্বক চকচকে রুপালি ধূসর বর্ণের হয়ে থাকে; আবার হালকা লালচে বাদামিও হতে পারে। দেহের উপরের দিক লালচে বাদামি আর নিচের দিক হালকা রঙের। এদের মাথা ও ঘাড় পৃথক নয়। এদের চক্ষু ছোট বিন্দুর মতো এবং আলোকসংবেদী। ব্রাহ্মণী দুমুখো সাপ নিশাচর (Nocturnal) অর্থাৎ এরা সাধারণত রাতে চলাচল এবং শিকার করে। সাধারণত মাটির নিচে থাকতে পছন্দ করে।