সচেতনতা ও গাইড ⏱️ 4 মিনিটের পাঠ 👁️ 180 বার পঠিত

সামুদ্রিক সাপ সম্পর্কে কিছু চমৎকার তথ্য

1. বিশ্বে সামুদ্রিক সাপের সর্বমোট ৬৯ টি প্রজাতি রয়েছে। বিজ্ঞানীরা এই প্রজাতিগুলিকে দুটি বিভাগে বিভক্ত করেছেন: সত্যিকারের সামুদ্রিক সাপ (true sea snak...

নাবিদ আল জুবায়ের
নাবিদ আল জুবায়ের
সামুদ্রিক সাপ সম্পর্কে কিছু চমৎকার তথ্য

1. বিশ্বে সামুদ্রিক সাপের সর্বমোট ৬৯ টি প্রজাতি রয়েছে। বিজ্ঞানীরা এই প্রজাতিগুলিকে দুটি বিভাগে বিভক্ত করেছেন: সত্যিকারের সামুদ্রিক সাপ (true sea snake) এবং সমুদ্রিক ক্রেইট (sea krait)। সত্যিকারের সামুদ্রিক সাপগুলি তাদের জীবণের সমস্ত সময় সমুদ্রে কাটায় আর সামুদ্রিক ক্রেইটগুলি তাদের জীবণকালের কিছুসময় সমুদ্রে এবং কিছুসময় স্থলভাগে কাটায়! 2. লেজ দেখে খুব সহজেই সামুদ্রিক সাপকে শনাক্ত করা সম্ভব। তাদের লেজ চ্যাপ্টা আকৃতির হয়। এই চ্যাপ্টা আকৃতির লেজ সমুদ্রের সাপগুলিকে জলের মধ্যে দিয়ে নিজেদেরকে সুন্দরভাবে পরিচালিত করতে সাহায্য করে, তবে এই উপাঙ্গগুলি তাদের স্থলভাগে কিছুটা অস্বস্থিকর পরিস্থিতিতে ফেলেদেয়। 3. আটলান্টিক মহাসাগরে কোন সামুদ্রিক সাপ নেই। সামুদ্রিক সাপগুলি ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরের গ্রীষ্মমন্ডলীয় এবং উপক্রান্তীয় জলে বাস করে। আটলান্টিক মহাসাগর বা ক্যারিবিয়ান সাগরে এদের পাওয়া যায় না। লোহিত সাগরের মতো উচ্চ লবণাক্ত অঞ্চলেও সামুদ্রিক সাপ পাওয়া যায় না। 4. সামুদ্রিক সাপ লক্ষ লক্ষ বছর ধরে পৃথিবীতে টিকে আছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কোরাল ট্রায়াঙ্গলে প্রায় ছয় থেকে আট মিলিয়ন বছর আগে প্রথম সামুদ্রিক সাপগুলি বিবর্তিত হতে শুরু করে। তবে বেশিরভাগ প্রজাতি মাত্র এক থেকে তিন মিলিয়ন বছর আগে বিবর্তিত হয়েছিল। 5. এরাই একমাত্র সরীসৃপ যারা সমুদ্রে বাচ্চা জন্ম দেয়। বেশিরভাগ সত্যিকারের সামুদ্রিক সাপগুলি ovoviviparous, যার অর্থ ফিমেল সাপেরা ডিম উৎপন্ন করে, পেটের ভিতর থেকেই ডিম গুলি ফুটে বাচ্চা প্রসব করে। এর কারণ হলো এই সাপগুলি খুব কমই ভূমিতে যায় এবং তাদের ডিম পানির নিচে ফোটে না। তাই, স্ত্রীরা ডিম উৎপন্ন করে এবং সমুদ্রে সাঁতার কাটতে গিয়ে প্রায় সম্পূর্ণরূপে সুগঠিত সাপের জন্ম দেয়। তবে সামুদ্রিক ক্রেইট গুলো oviparous হয়, মানে এরা ডিম দেয়। যার মধ্যে সাধারণত দেখা যায় yellow-lipped sea krait, এরা ডিম পাড়ার জন্য স্থলভাগে আসে। 6. সামুদ্রিক সাপেরা দীর্ঘ সময়ের জন্য তাদের শ্বাস আটকে রাখতে পারে। মাছের মতো ফুলকা থাকেনা সামুদ্রিক সাপেদের। এরা বাতাসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। সকল প্রজাতির সামুদ্রিক সাপেদের বেঁচে থাকতে হলে পর্যায়ক্রমে সমুদ্র পৃষ্ঠে ফিরে আসতে হবে। যদিও বেশিরভাগ সামুদ্রিক সাপ প্রতি 30 মিনিটে শ্বাস নেওয়ার জন্য উপরে উঠে আসে, কিছু সত্যিকারের সামুদ্রিক সাপ আট ঘন্টা পর্যন্ত পানির নিচে থাকতে পারে। কারণ এই সাপগুলি তাদের ত্বকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের 33% পর্যন্ত শোষণ করতে পারে। একই পদ্ধতিতে তাদের কার্বন ডাই অক্সাইডের 90% ত্যাগ করতে পারে।

7. সামুদ্রিক সাপ পিপাসায় মারা যেতে পারে। কারণ এই সরীসৃপ প্রাণীরা বেঁচে থাকার জন্য এখনও বিশুদ্ধ জল পান করে। সারা দিন সমুদ্রে কাটালেও সমুদ্রের নোনা জল তাদের পক্ষে উপযুক্ত নয়। কিছু সামুদ্রিক সাপের প্রজাতি জল খোঁজার জন্য ভূপৃষ্ঠে চলে যায়, অন্যরা সমুদ্র পৃষ্ঠে তাজা জল জমার জন্য বৃষ্টির অপেক্ষা করে। বৃষ্টির পানি সমুদ্র পৃষ্ঠে জমা হলে তারা সাঁতার কাটার সময় সেগুলো পান করতে পারে। 8. লবণ জল অপসারণ করার জন্য সামুদ্রিক সাপেদের বিশেষ গ্রন্থি রয়েছে। যদিও সামুদ্রিক সাপ নোনা জল পান করে না, তবুও শিকার করার সময় তারা প্রচুর লবণ গ্রহণ করে। অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ রোধ করার জন্য, সাপগুলি বিশেষ সাবল্যাংগুয়াল গ্রন্থি তৈরি করেছে। এই গ্রন্থিগুলি সাপের জিভের নীচে থাকে এবং রক্ত প্রবাহ থেকে লবণ মুখের দিকে ঠেলে দেয়, অর্থাৎ সাপ কেবল তার জিহ্বা ঝাঁকানোর মাধ্যমে অবাঞ্ছিত লবণ বের করে দিতে পারে.. 9. তারা স্কুবা ডাইভারদের চেয়েও বেশি গভীরে ডুব দিতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, সামুদ্রিক সাপ শিকারের সন্ধানে 800 ফুট (250 মিটার) পর্যন্ত গভীরতায় ডুব দিতে পারে। তবে বেশিরভাগ সামুদ্রিক সাপই অপেক্ষাকৃত তীরের কাছাকাছি অগভীর এলাকায় থাকতে পছন্দ করে। 10. সামুদ্রিক সাপ অত্যন্ত বিষধর হয়। প্রকৃতপক্ষে, অনেক সামুদ্রিক সাপের প্রজাতি কোবরা বা র‍্যাটলস্নেকের চেয়ে অনেক বেশি বিষধর। তবে এদের কামড়ানোর রেকর্ড অত্যন্ত বিরল। সামুদ্রিক সাপ আশ্চর্যজনকভাবে নম্র এবং সাধারণত ভয় পেলে পালায়, নিজেকে বেশি বিপদগ্রস্ত মনে করলেই কামড়ায়। বিশ্বের রেকর্ডকৃত সামুদ্রিক সাপের কামড়ের অধিকাংশই জেলেরা । বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যখন তাদের জালে সামুদ্রিক সাপ আটকে তখন সেগুলো ছাড়াতে গিয়ে অথবা দুর্ঘটনাবশত জলে তাদের উপর পা ফেললে সামুদ্রিক সাপের কামড় খাওয়ার সম্ভাবনা সবথেকে বেশি। 11. বিষদাঁতের ধরণ অনুযায়ী এরা ওফিসটোগ্লাইফাইড সাপ। ৪+ প্রোটেরোগ্লাইফা বা নিরেট দাঁতের পরে বিষদাঁত হয় এদের। মানে বিষ দাঁতের সামনে আরো ৪+ সাধারণ দাঁত থাকে। তাই এরা কামড়ালে বিষ দাঁত পুশ না হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

নাবিদ আল জুবায়ের

নাবিদ আল জুবায়ের

Facebook প্রোফাইল ↗

Organizing secretary, WSRTBD.

সাপ ও বন্যপ্রাণী - রেসকিউ বিডি
Google Play Google Play থেকে ফ্রি নামান ★ ৪.৯ রেটিং • সম্পূর্ণ বিনামূল্যে
⚕️ জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা

এই নিবন্ধের সকল তথ্য জনসচেতনতামূলক ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। সাপে কামড়ের ক্ষেত্রে অবিলম্বে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা সরকারি জেলা সদর হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।

সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় নিবন্ধ

সবগুলো দেখুন →