সচেতনতা ও গাইড ⏱️ 4 মিনিটের পাঠ 👁️ 180 বার পঠিত

পৃথিবীতে কি এমন কোনো সাপ আছে যা গিরগিটির মতো নিজের রং বদলাতে সক্ষম?

নিজের গায়ের রং পাল্টাতে সক্ষম এমন প্রাণীর কথা ভাবলেই সর্বপ্রথম যে প্রাণীটির নাম আমাদের মাথায় আসে সেটি হলো গিরগিটি। যারা জ্ঞান-বিজ্ঞান নিয়ে স্বল্প বিস্...

নাবিদ আল জুবায়ের
নাবিদ আল জুবায়ের
পৃথিবীতে কি এমন কোনো সাপ আছে যা গিরগিটির মতো নিজের রং বদলাতে সক্ষম?

নিজের গায়ের রং পাল্টাতে সক্ষম এমন প্রাণীর কথা ভাবলেই সর্বপ্রথম যে প্রাণীটির নাম আমাদের মাথায় আসে সেটি হলো গিরগিটি। যারা জ্ঞান-বিজ্ঞান নিয়ে স্বল্প বিস্তর ঘাঁটাঘাঁটি করেন তারা অবশ্য গিরগিটির পাশাপাশি আট পেয়ে অক্টোপাসের কথাও ভাববেন। তবে মজার বিষয় হলো শুধু ২-৪ টা প্রাণীর মধ্যে নিজেদের রং পরিবর্তনের এই বিশেষ গুণটি সীমাবদ্ধ নয়। সামুদ্রিক বিভিন্ন স্কুইড, অক্টোপাস, সি-হর্স, ব্যাঙ, বিভিন্ন পতঙ্গ, মাছ, গিরগিটি, টিকটিকি, স্যালামান্ডার ইত্যাদি প্রাণীদের মধ্যে রঙ বদলানোর প্রবণতা দেখা যায়। একটু অবাক হবেন হয়তো, কিছু প্রজাতির সাপেদের মধ্যেও এরকম প্রবণতা দেখা যায়! রং পরিবর্তনের এই বিচিত্র ক্ষমতাকে মেটাক্রোসিস (metachrosis) বলে। এটি মডার্ন ল্যাটিন ভাষার শব্দ। ইংরেজি meta (অবস্থার পরিবর্তন) এবং গ্রিক khrosis (রং) শব্দদ্বয়ের সংমিশ্রণে এই বিশেষ পরিভাষাটির সৃষ্টি। যাইহোক, ছদ্মবেশী এসব প্রাণী বিভিন্ন প্রয়োজনে তাদের রং পরিবর্তন করতে পারে। যখন পরিবেশ ঠান্ডা থাকে তখন তুলনামূলক অধিক তাপ সংরক্ষণের জন্য তারা গাঢ় রং ধারণ করে। আবার পরিবেশ গরম থাকলে হালকা রঙ ধারণের মাধ্যমে তাপ শোষণ কিছুটা কমিয়ে আনে। কিছু ক্ষেত্রে স্ত্রী প্রাণীরা পুরুষদের আকর্ষণ করার জন্য আকর্ষণীয় রঙে সেজে থাকে। সাপেরা তাদের নিজেদের দেহের তাপমাত্রা উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। অনেক সময় দেখা যায় কিছু প্রজাতির সাপেরা দৈহিক রং পরিবর্তনের মাধ্যমে তাদের দেহে প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা বজায় রাখে। যখন আবহাওয়া শীতল থাকে তখন দেহে অতিরিক্ত তাপমাত্রা ধরে রাখার জন্য গাঢ় রং ধারণ করে। আবার যখন আবহাওয়া বেশ গরম বা উত্তপ্ত থাকে তখন এরা দেহের তাপ বের করে দেওয়ার জন্য হালকা বর্ণ ধারন করে। হালকা বর্ণ ধারণ করায় এসব প্রজাতির সাপকে তখন অনেকটা ফ্যাকাশে দেখায়। যে সকল প্রাণীরা নিজেদের দেহে তাপ উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণ করতে অক্ষম তাদেরকে বলা হয় ইক্টোথার্মিক বা পোইকিলোথার্মিক (ectothermic or poikilothermic) প্রাণী। এই সমস্ত ectothermic এবং poikilothermic প্রজাতির প্রাণীদের রয়েছে রঙ পরিবর্তন করার বিশেষ ক্ষমতা। এদের দেহে বিশেষ কিছু রঞ্জক কোষ থাকে যা তাদের রং পরিবর্তনের ব্যাপারে সাহায্য করে। প্রাণীদের রং পরিবর্তনের এমন আচরণের সাথে আলোর একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। আলোর সংশ্লেষণ এবং প্রতিফলন প্রাণীদের রং পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাপেদের রং পরিবর্তনের জন্যও আলোর ভূমিকা অপরিসীম। রং সৃষ্টির জন্য দায়ী বিশেষ কোষগুলোতে আলোর সংশ্লেষণ ও প্রতিফলনের মাধ্যমে এরা নানান রংএ রঙিন হয়ে উঠে। Ectothermic এবং poikilothermic প্রাণীদের রং সমৃদ্ধ কোষ গুলোকে বলা হয় ক্রোমাটোফোর। আর এই ক্রোমাটোফোর গুলোই মেটাক্রোসিস (metachrosis) এর জন্য দায়ী। রং পরিবর্তনে সক্ষম এসব প্রাণীরা তাদের দেহের ক্রোমাটোফোর গুলির আকার এবং আকৃতির পরিবর্তনকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। ক্রোমাটোফোর গুলির আকার-আকৃতি পরিবর্তনের মাধ্যমেই তাদের দেহের রং বদলায়।

অবশ্য সাপেদের রং পরিবর্তনের সাথে অক্টোপাস বা গিরগিটির রং পাল্টানোর বিষয়কে তুলনা করা ঠিক হবে না। অক্টোপাস-গিরগিটির মতো পরিচিত Metachroic animal গুলো তাদের আশেপাশে থাকা রং গুলোকে পুরোপুরি অনুকরণ বা নকল করে। এটাকে কালার মিমিক্রিং বা মকিং বললেও ভুল হবেনা৷ এরা পরিবেশের সাথে পুরোপুরি মিশে যেতে হাজারো রকমের রঙে রঙিণ করতে সক্ষম নিজেকে। অপর দিকে কিছু প্রজাতির সাপেরা শিকার এবং শিকারীকে ধোঁকা দিতে দিনে অতিরিক্ত উজ্জ্বল এবং রাতে তুলনামূলক অনুজ্জ্বল রং ধারণ করে৷ এমন নয় যে পুরো রংই পাল্টে যাবে, শুধু স্কিন ব্রাইটনেস বা উজ্জ্বলতায় তারতম্য দেখা যায়। আবার কিছু সাপ আছে যারা পরিবেশ বা আবাসস্থলের সাথে মিল রেখে নিজের মূল রংটাও পরিবর্তন করতে সক্ষম। রং পরিবর্তনের জন্য অতি পরিচিত কিছু সাপ: *Kapuas mud snake (Homalophis gyii): ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিওর রেইনফরেস্ট এবং জলাভূমিতে বাস করা সাপটি রং পরিবর্তনকারী সাপেদের মধ্যে সর্বাধিক জনপ্রিয়। মৃদু বিষধর এই সাপের রং পরিবর্তনের বৈশিষ্ট্য জনসম্মুখে এসেছে একদমই দূর্ঘটনাবসত। 2005 সালে একটি Kapuas mud snake কে অন্ধকারে রাখার পর এটির রংএর পরিবর্তন সবার নজরে আসে। এই সাপের রঙ দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। তার স্বাভাবিক লালচে-বাদামী রঙ থেকে 20 মিনিটের মধ্যে ফ্যাকাশে সাদা হয়ে যায়। *Rattlesnakes: কিছু প্রজাতির Rattlesnake রংএর পরিবর্তনের জন্য পরিচিত। এর মধ্যে prairie rattlesnake কে উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়। এটি আলো-অন্ধকারের ভিত্তিতে নিজের দৈহিক রংএর শেডেও পার্থক্য ঘটায়। *Boa snakes: boidae পরিবারের সাপ গুলোকে বোয়া স্নেক বলে। অনেক প্রজাতির Boa snakes তাদের শরীরের রংএ তারতম্য সৃষ্টি করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে Solomon ground boa (Candoia paulsoni) এর কথা বলি। বাহ্যিক পরিবেশের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, সাপের মিলন আগ্রহ এবং মানসিক অবস্থার প্রভাবে সাপটির দেহের রং হালকা বাদামী থেকে গাঢ় বাদামীতে বদলে যায়! *dusky dwarf boa (Tropidophis melanurus): এই সাপটি নিশাচর, অর্থাৎ রাতে চলাচল এবং শিকার করে। রাতের অন্ধকারে এটি হালকা রং ধারণ করে এবং দিনে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে, তখন সাপটি গাঢ় রংএ দেখা যায়। ফটোপিরিয়ড এবং তাপমাত্রার মতো কারণে dusky dwarf boa সাপের রঙ হালকা এবং গাঢ় হতে পারে। এই রং পরিবর্তন তাদেরকে ছদ্মবেশের আড়ালে লুকোতে সাহায্য করে। মজার ব্যপার হলো সময় মতো খাওয়ানোর ওপরেও এদের দেহের রং অনেকাংশে নির্ভরশীল! আমি আর বিস্তারিত তে না যাই, তবে এটা নিশ্চিত যে কমপক্ষে ৪ টি পরিবারের ৯ টি প্রজাতির সাপ সরাসরি রং পরিবর্তনের সাথে যুক্ত। এর মধ্যে ৭ টি প্রজাতি ২৪ ঘন্টার চক্র অনুসারে দিন-রাতে নিজেদের রং পরিবর্তন করে। সংখ্যা টা আরো অনেক বাড়ার কথা। তবে আমার কাছে এই কয়েক প্রজাতির অনুমোদিত তালিকা আছে।

নাবিদ আল জুবায়ের

নাবিদ আল জুবায়ের

Facebook প্রোফাইল ↗

Organizing secretary, WSRTBD.

সাপ ও বন্যপ্রাণী - রেসকিউ বিডি
Google Play Google Play থেকে ফ্রি নামান ★ ৪.৯ রেটিং • সম্পূর্ণ বিনামূল্যে
⚕️ জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা

এই নিবন্ধের সকল তথ্য জনসচেতনতামূলক ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। সাপে কামড়ের ক্ষেত্রে অবিলম্বে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা সরকারি জেলা সদর হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।

সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় নিবন্ধ

সবগুলো দেখুন →