সাপের বিষথলি থেকে ভিক্টিমের দেহে বিষ প্রবেশ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া
প্রথমেই বলে রাখি সাপের যে বিষগ্রন্থী টা আছে সেটা লালা গ্রন্থী থেকেই বিবর্তীত। মানুষেরও একইরকম লালাগ্রন্থি আছে, সাপের বিষকে লালার সাথে তুলনা করা যেতে...
প্রথমেই বলে রাখি সাপের যে বিষগ্রন্থী টা আছে সেটা লালা গ্রন্থী থেকেই বিবর্তীত। মানুষেরও একইরকম লালাগ্রন্থি আছে, সাপের বিষকে লালার সাথে তুলনা করা যেতে পারে। মানুষের লালা এবং সাপের বিষের মধ্যে কমন কিছু উপাদানও রয়েছে। ১ম ছবিতে দেখানো মানুষের লালাগ্রন্থির সাথে সাপেদের বিষথলির তুলনা করা যায়। শুধু সাপের ক্ষেত্রে অবস্থান ভিন্ন। ২য় ছবিতে দেখানো সাপের একপাশের বিষথলির মতো একই গ্রন্থি বিপরীত পাশেও আরেকটা আছে, চোখের পেছনে ঘাড়ের দুই পাশে দুইটা বিষথলি থাকে সাপেদের। (দুটো ছবিই সংযোজন করা সম্ভব হয়নি বলে দুঃখিত) সাপের দাঁতের পজিশন সম্পর্কে আগেই জেনেছেন সম্ভবত, ওটা নিয়েও একটু আলোচনা করবো। বিষ উৎপাদন থেকে শুরু করে ভিক্টিমের শরীরে প্রবেশ করা পর্যন্ত বেশ কিছু টার্ম আছে। টার্মগুলো সম্পর্কে আইডিয়া নিয়ে নেই আগে, নাহলে পরে ডায়াগ্রামের গিয়ে কিছুই বুঝবেন না। 1. Compressor muscle- সংকোচনশীল পেশী, যেটার সংকোচনের ফলেই মূলত বিষথলিতে চাপ লেগে নালির ভেতর দিয়ে বিষ প্রবাহিত হয়। 2. Main venom gland- এটা সাপের প্রধান বিষথলী, এখানেই বিষ উৎপাদনশীল কোষ থাকে। যেগুলোর সাহায্যে বিষ উৎপন্ন হয় এবং এখানেই বিষ সংগ্রহীত থাকে। সাপের বিষ বাতাসের সংস্পর্শে নষ্ট হয়ে যায় জন্য এটাকে সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় তাপে বায়ুনিরোধক অবস্থায় বিষথলিতে থাকে উৎপন্ন বিষ। 3. Primary duct: প্রধান নালী, এটার শুরুর প্রান্ত সরাসরি সাপের প্রধান বিষথলির সাথে যুক্ত থাকে। সংকোচনশীল পেশির চাপ পরলে বিষথলি থেকে এই নালীর মাধ্যমেই বিষ বের হয়। 4. Accessory venom gland: এটা অতিরিক্ত বিষথলী। প্রধান নালীর শেষ প্রান্ত থেকে এই থলীর উৎপত্তি ঘটে। মারণমাত্রার বিষ সাধারণত এখানেই সংরক্ষিত থাকে। সাপ প্রথম কামড়ে যে বিষ ইনজেক্ট করে সেটা এখানথেকেই যায়। 5. Secondary duct: অতিরিক্ত বিষথলি থেকে এই অতিরিক্ত নালিটা বের হয়, এটার কাজ অতিরিক্ত বিষথলি থেকে ভিক্টিমের শরীরে বিষ প্রবেশের আগ পর্যন্ত সেটাকে পরিবহণ করা। 6. Discharge aperture: এটা সাপের বিষদাঁতের অগ্রভাগে উপস্থিত ছিদ্র, যেটার মাধ্যমে বিষ বের হয়ে ভিক্টিমের শরীরে প্রবেশ করে।
7. Fang: বিষ দাঁত, যে দাঁতের মাধ্যমে সাপ বিষ প্রয়োগ করে। 8. Protective sheath: বিষদাঁতকে সুরক্ষিত রাখতে পাতলা মাংসের তৈরী আবরন। 9. Grooved fang- খাঁজকাটা বিষদাঁত (পেছনে বিষদাঁত ওয়ালা সাপেদের জন্য।) 10. duvernoys gland- পেছনে বিষদাঁত ওয়ালা সাপেদের বিষথলি, এটা সাধারণ বিষথলি থেকে ভিন্ন। Elapidae পরিবারের সাপেদের বিষদাঁত শুরু হয় ২ দাঁত পর থেকে। প্রথমে ২ টা সাধারণ দাঁত থাকে, তারপর বিষ দাঁত অবস্থিত। তাই এদেরকে প্রোটেরোগ্লাইফাইড স্নেক বলে। গোখরা, কালাচ, রাজগোখরা এজাতীয় সাপ। Viperidae পরিবারের সাপেদের বিষথলি টা দেখুন, এটা Elapidae পরিবারের সাপেদের থেকে তুলনামূলক বড়। এদের বিষ প্রয়োগের সক্ষমতা বেশি। বিষদাঁত ভাঁজ করতে সক্ষম এরা। দাঁত বড় থাকায় এদের মুখ বন্ধ থাকলে দাঁত ভাঁজ হয়ে থাকে। মুখের শুরুর ২ টা দাঁতই বিষদাঁত তাই এদের সোলেনোগ্লাইফাইড স্নেক বলে। এদের একটা সিক্রেট অ্যাটাক আছে, এরা মুখ বন্ধ রেখেই চোয়াল ফুটো করে কামড়াতে পারে, দাঁত বড় হওয়ায় এই সুবিধা টা পায় এরা। তাই ভাইপারদের হেডক্যাচিং অন্য সাপেদের থেকে ভিন্ন হয়। মৃদু বিষধর বা লালঘাড় ঢোঁড়া জাতীয় বিষধর সাপেদের বিষদাঁত পেছনে, ফলে এদের বিষ প্রয়োগের পদ্ধতিও সম্পূর্ণ ভিন্ন। খেয়াল করলে দেখবেন এদের কোনো কমপ্রেসর পেশি নেই, শুধু ছোট একটা বিষথলি এবং খুব ছোট প্রধান নালী থাকে। এদের বিষদাঁতে কোনো ফুটো থাকে না।দাঁতের গায়ে খাঁজ কাটা থাকে, সেখান দিয়ে বিষ বেয়ে ভিক্টিমের শরীরে প্রবেশ করে। আর সংকোচন পেশি না থাকায় এরা সহজে বিষ প্রয়োগও করতে পারে না। এদের বিষদাঁতের শুরুতে ৪+ সাধারণ দাঁত থাকে, সাধারণ দাঁতের সংখ্যা ৫, ৬, ৭টা পর্যন্ত হতে পারে। এদের বিষথলিকে ডুভেরনয়'স গ্লান্ড বলে। প্রচলিত বিষথলি থেকে এর বিষ উৎপাদন এবং প্রয়োগ ক্ষমতা অনেক কম। সেজন্যই এমন অভ্যন্তরীণ গঠনের সাপেরা সাধারণত মৃদু বিষধর হয়ে থাকে। এটাই মূল প্রক্রিয়া বিষথলী থেকে ভিক্টিমের শরীর পর্যন্ত বিষ প্রবেশের।
নাবিদ আল জুবায়ের
Facebook প্রোফাইল ↗Organizing secretary, WSRTBD.
এই নিবন্ধের সকল তথ্য জনসচেতনতামূলক ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। সাপে কামড়ের ক্ষেত্রে অবিলম্বে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা সরকারি জেলা সদর হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।