সচেতনতা ও গাইড ⏱️ 4 মিনিটের পাঠ 👁️ 180 বার পঠিত

সাপের জিহ্বা দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ার কারণ কী?

এটা নিঃসন্দেহে একটা দারুণ প্রশ্ন। আমরা আশেপাশের সব প্রাণীর অখন্ডিত জিহ্বা দেখে অভ্যস্ত হওয়ায় হুট করে সাপের খন্ডিত জিহ্বা দেখলে একটু অস্বস্তি বোধ করি। ...

নাবিদ আল জুবায়ের
নাবিদ আল জুবায়ের
সাপের জিহ্বা দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ার কারণ কী?

এটা নিঃসন্দেহে একটা দারুণ প্রশ্ন। আমরা আশেপাশের সব প্রাণীর অখন্ডিত জিহ্বা দেখে অভ্যস্ত হওয়ায় হুট করে সাপের খন্ডিত জিহ্বা দেখলে একটু অস্বস্তি বোধ করি। এর সাথে সাপ সম্পর্কে নানান কুসংস্কার তো আছেই! সাপের চেঁড়া জিহ্বার নড়াচড়া দেখলেই আগ্রহ, অস্বস্তি ও সুপ্ত ভয়ের মিশ্রণ তৈরী হতে শুরু করে আমাদের মনে। জানলে অবাক হবেন সাপেদের জিহ্বা এদের প্রাকৃতিক পরিবেশে স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে বেঁচে থাকার জন্য সাহায্য প্রদানকারী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। জিহ্বার সাহায্যেই সাপেরা শিকারকে শনাক্ত করতে পারে। কোনো সাপের জিহ্বা কেটে ফেলা হলে সে হয়তো শিকার করার ক্ষমতাই হারিয়ে ফেলবে এবং ধীরে ধীরে মারা যাবে। মানুষ সহ অন্যান্য বেশিরভাগ প্রাণীরা জিহ্বার সাহায্যে খাদ্যের স্বাদ গ্রহণ করলেও সাপেরা তাদের জিহ্বাকে অন্য কাজে ব্যবহার করে। সাপেদের জিহ্বায় কোনো টেস্টবাড'স নেই, তাই এরা জিহ্বার সাহায্যে খাদ্যের স্বাদ গ্রহণ করতে পারে না। আমরা যেমন নাকের মাধ্যমে উদ্দীপকের ঘ্রাণ গ্রহণ করতে পারি, সাপেরা এই ঘ্রাণ শনাক্তের কাজেই তার জিহ্বাকে ব্যবহার করে থাকে। সাপের নাক আছে, কিন্তু নাক শুধু অক্সিজেন গ্রহণ ও ত্যাগের কাজ টা করে। আর সাপ বার বার তার জিহ্বা টা বাইরে বের করে মাটি ও বায়ূর কণা থেকে প্রোটিন জাতীয় উপাদান শনাক্ত করে সেটা তার মুখের ভেতরে থাকা জ্যাকবসন্স অর্গানে প্রবেশ করায়। জ্যাকবসন্স অর্গান উক্ত নমুনা বিশ্লেষণ করে ঘ্রাণঅনুভূতি প্রদানে ভূমিকা পালন করে। তাহলে বোঝা গেল আমরা জিহ্বাকে স্বাদ অনুভূতি গ্রহণে ব্যবহার করলেও সাপেরা এটাকে ঘ্রাণ অনুভূতি শনাক্তে ব্যবহার করে।

এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো সাপের জিহ্বা তো চেঁড়া না হয়ে অখন্ডিতও হতে পারতো। খন্ডিত বা চেঁড়া হলেও ২ ভাগেই কেন বিভক্ত হলো? ৩-৪ বা ততোধিক ভাগে বিভক্ত হলোনা কেন? এক্ষেত্রে আমি বলবো যেকারণে আমাদের কান দুটো, ঠিক একই কারণে সাপেদের জিহ্বাও দুই ভাগে বিভক্ত। সাপেদের জিহ্বা অগ্রভাগে এসে দুটো ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে এবং যখন সাপ জিহ্বার মাধ্যমে বাইরের পরিবেশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তখন জিহ্বার দুটি অংশই স্বতন্ত্র ভাবে উপাদান সংগ্রহে যুক্ত থাকে। সাপ প্রতি সেকেন্ডে তার জিহ্বাকে ১৫ বার পর্যন্ত ফ্লিকিং করতে সক্ষম। প্রতিবার যথেষ্ট পরিমাণ নমুনা সংগ্রহ করে সাপেরা মুখের ভেতরে থাকা জ্যাকবসন্স অর্গানের মাধ্যমে উক্ত নমুনাকে বিশ্লেষণ করে। এবং প্রক্রিয়াকৃত উপাত্ত থেকে সাপেরা শিকারের বা উদ্দীপকের অবস্থান খুব নিখুঁত ভাবে পরিমাপ করতে পারে। জিহ্বার দুই অংশ থেকে আগত ভিন্ন উপাত্তের কারণেই সাপ উদ্দীপকের অবস্থা বুঝতে পারে এবং উদ্দীপক সাপের কোন দিকে কতদূরে অবস্থান করছে সেটা সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা পায়। মানুষ যেমন দুটো কানের জন্য কোনো শব্দ শুনলে খুব সহজে বুঝতে পারে শব্দের উৎস কতদূর, কোনদিকে অবস্থান করছে এবং উক্ত উদ্দীপকের আকৃতিও অনুমান করতে পারে। তেমন সাপেরাও দুটো অংশে বিভক্ত জিহ্বার কারণে উদ্দীপক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ উপাত্ত সংগ্রহ করতে পারে। এই উপাত্ত গুলোই সাপকে খাদ্য শিকার করতে এবং আত্মরক্ষার মাধ্যমে বেঁচে থাকতে সবথেকে বেশি সাহায্য করে।

নাবিদ আল জুবায়ের

নাবিদ আল জুবায়ের

Facebook প্রোফাইল ↗

Organizing secretary, WSRTBD.

সাপ ও বন্যপ্রাণী - রেসকিউ বিডি
Google Play Google Play থেকে ফ্রি নামান ★ ৪.৯ রেটিং • সম্পূর্ণ বিনামূল্যে
⚕️ জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা

এই নিবন্ধের সকল তথ্য জনসচেতনতামূলক ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। সাপে কামড়ের ক্ষেত্রে অবিলম্বে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা সরকারি জেলা সদর হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।

সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় নিবন্ধ

সবগুলো দেখুন →