সচেতনতা ও গাইড ⏱️ 4 মিনিটের পাঠ 👁️ 180 বার পঠিত

সাপেদের মধ্যে কি সংকর প্রজাতি তৈরী করা সম্ভব? সম্ভব হলে পদ্ধতিটা কী?

সংকর বা ক্রসব্রিড প্রাণীর প্রতি আমরা অন্যরকম একটা আগ্রহ অনুভব করি। আগ্রহের মূল কারণ হলো এদের অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য এবং বিরলতা। অতিশয় পরিচিত একটি সংকর হলো খ...

নাবিদ আল জুবায়ের
নাবিদ আল জুবায়ের
সাপেদের মধ্যে কি সংকর প্রজাতি তৈরী করা সম্ভব? সম্ভব হলে পদ্ধতিটা কী?

সংকর বা ক্রসব্রিড প্রাণীর প্রতি আমরা অন্যরকম একটা আগ্রহ অনুভব করি। আগ্রহের মূল কারণ হলো এদের অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য এবং বিরলতা। অতিশয় পরিচিত একটি সংকর হলো খচ্চর (ঘোড়া×গাধা=খচ্চর)। হ্যাঁ, সাপেদের মধ্যেও সংকর প্রজাতি তৈরী করা সম্ভব।তবে সংকর প্রজাতি তৈরী করতে গেলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। ১. নিবিড়ভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রজাতি নির্বাচনঃ সংকর প্রজাতি তৈরী করতে হলে অবশ্যই প্যারেন্ট স্পিসিজের মধ্যে যথাযথ মিল থাকা আবশ্যক। সাধারণত একই জেনাস (গণ) এর স্পিসিজ (প্রজাতি) গুলোর মধ্যে যথেষ্ট আন্তঃসম্পর্ক থাকে। তাই সংকর খুবসাধারণত একই গণের ভিন্ন প্রজাতির মধ্যেই হয়। তবে কিছু ভিন্ন গণের প্রাণীদের মধ্যেও সংকর করা সম্ভব হয়েছে। এক্ষেত্রে খুব নিকট অতীতে উভয় গণ একই পূর্বপুরুষের অধীনে ছিল, যার ফলে ভবিষ্যতে গিয়ে নানান পার্থক্যের ফলে গণ ভিন্ন হয়ে গেলেও ক্রস ব্রিড করার মতো যথেষ্ট আন্তঃসম্পর্ক বিদ্যমান। ২. ক্রোমোজোমের মিলঃ সাপ সহ যেকোনো প্রাণীরই কার্যকর প্রজনন ক্ষমতা সম্পন্ন সংকর প্রাণী উৎপাদনের জন্য প্যারেন্ট স্পিসিজে সামঞ্জস্যপূর্ণ ক্রোমোজম সংখ্যা থাকা প্রয়োজন। উদাহরণস্বরূপ, যদি একটি পুরুষ সাপের 36টি ক্রোমোজোম এবং একটি মহিলা সাপের 35টি ক্রোমোজম থাকে তাহলে ক্রোমোজোমের অমিলের ফলে তাদের থেকে হাইব্রিড উৎপাদন হবেনা বা বংশবিস্তারে অক্ষম হাইব্রিড হতে পারে। যেমন ঘোড়ার ক্রোমোজম ৬৪ টি, গাধার ৬২ টি এবং এদের সংকর খচ্চরের ৬৩ টি। খচ্চর একটি অনুর্বর প্রাণী, এটি বংশবৃদ্ধি করতে অক্ষম। একই জেনাসের সাপের প্রজাতি গুলোতে সাধারণত সমান সংখ্যক ক্রোমোজম থাকে। *fun fact: মানুষের ক্ষেত্রে পুরুষেরা হেটেরোগেমেটিক সেক্স হয়। অর্থাৎ পুরুষের দুটি ভিন্ন সেক্স ক্রোমোজম (x,y) থাকে। ফলে বাচ্চার লিঙ্গ নির্ধারণ হয় পুরুষের ক্রোমোজোমের কারণে। অপরদিকে সাপেদের ক্ষেত্রে নারীরা হেটেরোগেমেটিক হয়। নারী সাপের সেক্স ক্রোমোজমে ভিন্নতা (w,z) থাকে এবং পুরুষ সাপের দুটো অভিন্ন (z,z) সেক্স ক্রোমোজোম হয়। ৩. প্রজনন চক্রের সময়ঃ সাপেরা সাধারণত বছরের নির্দিষ্ট সময়ে যৌন অনুভূতি অনুভব করে। এই সময়টা একেক প্রজাতির সাপের জন্য একেকরকম। কিছু প্রজাতি আছে বসন্তের শুরুতে মিলনে আগ্রহী হয় আবার কিছু সাপ আছে গ্রীষ্মের মাঝামাঝিতে আগ্রহী হয়। একেক সাপ একেক আবহাওয়া দ্বারা প্রভাবিত। ভিন্ন দুটি সাপের প্রজাতির ক্রস করতে চাইলে প্রজনন মৌসুমের মিল থাকতে হয়। অন্যথায় দুটো সাপ পরস্পর মিলনের অনুভূতি পাবেনা। প্রাকৃতিক পরিবেশে সাপেদের সংকর না হওয়ার অন্যতম বড় কারণ এটি। এজন্য নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে দক্ষ প্রজননকারী দুটো ভিন্ন প্রজাতির সাপের প্রজনন মৌসুমের ন্যয় পরিবেশ তৈরী করে তাদের মাঝে মিলনের আগ্রহ তৈরী করতে পারেন। ৪. ফেরোমন সিগন্যালিংঃ স্ত্রী সাপ প্রজননে আগ্রহী হলে তার চলার পথে পায়ূ হতে ফেরোমন নিঃসরণ করতে থাকে। উক্ত ফেরোমনের গন্ধে আশেপাশে একই প্রজাতির কোনো পুরুষ সাপ থাকলে ওই পথ অনুসরণ করে স্ত্রীকে খুঁজে পায়। ফেরোমনের গন্ধ একই প্রজাতির সাপেদের মধ্যে আকর্ষণ সৃষ্টি করবে। এক্ষেত্রে ভিন্ন প্রজাতির সাপেদের মেটিং প্রাকৃতিক পরিবেশে দূরসাধ্য হয়ে যায়। গবেষণাগারে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে একই প্রজাতির স্ত্রী সাপের ফেরোমন ভিন্ন প্রজাতির সাপের উপরে প্রয়োগ করে পুরুষ সাপটিকে আকর্ষিত করা যেতে পারে। ৫. প্রজনন অঙ্গের সামঞ্জস্যতাঃ প্যারেন্ট স্পিসিজের প্রজনন অঙ্গগুলি অবশ্যই গঠনগতভাবে যথেষ্ট মানানসই হতে হবে যাতে সফল সঙ্গম এবং প্রজনন ঘটতে পারে। পুরুষ সাপেদের শুক্রাণু স্থানান্তরের জন্য এক জোড়া হেমিপেনিস থাকে এবং স্ত্রীদের শুক্রাণু গ্রহণের জন্য ক্লোয়েকা থাকে। কিছু ক্ষেত্রে জননাঙ্গের আকার-আকৃতি বা মিলনের আচরণগত পার্থক্য সফল আন্তঃপ্রজনন ব্যহত করতে পারে। এই প্রভাবক গুলো সাপের সংকরায়নকে ইতিবাচক ভাবে প্রভাবিত করলে দুটো ভিন্ন প্রজাতির সাপের মধ্যে অবশ্যই সংকর ঘটানো সম্ভব।

বর্তমানে বানিজ্যিক ভাবে বেশ কিছু সাপের সংকর তৈরী করা হচ্ছে এবং ক্রেতা মহলে এগুলো যথেষ্ট চাহিদাসম্পন্ন পোষা প্রাণী হিসেবে বিবেচিত। কিছু সুপরিচিত সংকর সাপের পরিচয় দেয়া হলোঃ 1. Super Ball: Ball Python x Blood Python 2. Burm Ball: Ball Python x Burmese Python 3. Angry Ball: Angolan Python x Ball Python 4. Wall Ball: Woma Python x Ball Python 5. Beast Corn: Corn Snake x Black Rat Snake 6. Fox Corn: Corn Snake x Fox Snake 7. Baridy Corn Snake: Corn Snake x Baird’s Rat Snake 8. Jungle Corn: Corn Snake x California King Snake 9. Creamsicle Corns: Corn Snake x Great Plains Rat Snake যদিও হাইব্রিড সাপ গুলোকে প্রথমে সুস্থ মনেহয়, তবে পরবর্তী জীবনে নতুন নতুন জিনগত ত্রুটি, অসুস্থতা এবং আচরণের অসামঞ্জস্যতা দেখানোর প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যায়। যেহেতু বেশিরভাগ হাইব্রিড সাপেরা প্রজননে অক্ষম, তাই এদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে স্থিতিশীল করার কোন উপায় নেই। প্রতিটি হাইব্রিড শুধুমাত্র গবেষণা, নতুন চেহারা ও বৈশিষ্ট্যের সাপ উৎপাদনের আগ্রহ, সৌখিনতা প্রকাশ এবং চড়া মূল্যে বিক্রির উদ্দেশ্যে তৈরী করা হয়। এদের ভিতর মাঝে মাঝেই উদ্ভট কিছু আচরণ লক্ষ্য করা যায়। এর মধ্যে অনিয়ন্ত্রিত কামড়ের প্রবণতা এবং ক্ষিপ্রতা উল্লেখযোগ্য। এমন অস্বাভাবিক আচরণ সাপের মালিককে যেমন নিরাপত্তাহীনতায় ফেলে, তেমন এটি কোথাও ছেড়ে দিলে বা পালিয়ে গেলে সাধারণ মানুষকেও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। সংকর প্রজাতি তৈরী করা প্রাণ-প্রকৃতির জন্য খুব একটা মঙ্গলজনক নয়। এটি প্রকৃতপক্ষে প্রাকৃতিক নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করা। আর প্রাকৃতিক চক্রে হস্তক্ষেপ কখনো শুভপ্রদ হতে পারে না।

নাবিদ আল জুবায়ের

নাবিদ আল জুবায়ের

Facebook প্রোফাইল ↗

Organizing secretary, WSRTBD.

সাপ ও বন্যপ্রাণী - রেসকিউ বিডি
Google Play Google Play থেকে ফ্রি নামান ★ ৪.৯ রেটিং • সম্পূর্ণ বিনামূল্যে
⚕️ জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা

এই নিবন্ধের সকল তথ্য জনসচেতনতামূলক ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। সাপে কামড়ের ক্ষেত্রে অবিলম্বে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা সরকারি জেলা সদর হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।

সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় নিবন্ধ

সবগুলো দেখুন →