সচেতনতা ও গাইড ⏱️ 4 মিনিটের পাঠ 👁️ 180 বার পঠিত

সাপ কতটা প্রতিশোধ পরায়ণ?

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে সাপের প্রতিশোধ নেয়ার বিষয়টি একেবারেই ভ্রান্ত। প্রতিশোধ নিতে হলে মস্তিষ্কের গাঠনিক কাঠামো যেমন হওয়া প্রয়োজন এবং মস্তিষ্কের যে ...

নাবিদ আল জুবায়ের
নাবিদ আল জুবায়ের
সাপ কতটা প্রতিশোধ পরায়ণ?

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে সাপের প্রতিশোধ নেয়ার বিষয়টি একেবারেই ভ্রান্ত। প্রতিশোধ নিতে হলে মস্তিষ্কের গাঠনিক কাঠামো যেমন হওয়া প্রয়োজন এবং মস্তিষ্কের যে অংশগুলোর সম্পৃক্ততা প্রয়োজন সে অংশগুলো সাপের নেই। অর্থাৎ সাপ প্রতিশোধ শব্দটার সাথে একদমই পরিচিত নয়, আমরা চাইলে তাকে প্রতিশোধ নেয়া শেখাতেও পারবো না। সাপেরা প্রতিশোধ নিতে অক্ষম। প্রতিশোধ নিতে হলে মূলত দুইটি মানসিক প্রক্রিয়া (mental process) একত্রে কাজ করে, ১. স্মৃতি ও ২. সুপ্তক্ষোভ। কিন্তু মজার ব্যপার হলো সাপেদের এই দুটো মানসিক প্রক্রিয়ার একটিও সুগঠিত নয়। কোনো ডিজিটাল ডিভাইসে যেমন ডেটা সংরক্ষণের জন্য মেমোরি কার্ডের প্রয়োজন হয় তেমনই মস্তিষ্কেও প্রতিনিয়ত স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য একটি অংশ রয়েছে যার নাম 'hyppocampus (হিপোক্যাম্পাস)'। স্বল্পস্থায়ী স্মৃতি গুলোর উপাত্তকে একত্র করে দীর্ঘস্থায়ী রূপদানে এটি সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানব মস্তিষ্কের দুপাশে দুটি হিপোক্যাম্পাস রয়েছে। উইলিয়াম স্কোভিল (William Scoville) এবং ব্রেন্ডা মিলনার (Brenda Milner) তাঁদের গবেষণায় (১৯৫৭) দেখতে পান যে, একজন রোগীর হিপোক্যাম্পাস অস্ত্রোপচার করে অপসারণ করার ফলে তার মধ্যে স্মৃতিভ্রংশ দেখা দেয়। মানুষ, বানর সহ অন্যান্য বুদ্ধি সম্পন্ন প্রাণীর হিপোক্যাম্পাসে ক্ষত সৃষ্টি করে দেখা যায় পরিক্ষণ পাত্র নতুন স্মৃতি ধারণে ব্যর্থ হচ্ছে। সাপেদের মস্তিষ্কে কোনো সুগঠিত হিপোক্যাম্পাস নেই, তাই বোঝাই যাচ্ছে এরা কোনো দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি ধারণ করতে পারেনা। আর স্মৃতিতে কোনো উপাত্ত না থাকলে পরবর্তীতে প্রতিশোধ নেয়াও সম্ভব নয়।

প্রাণীর অভ্যন্তরে আবেগ, ভালোবাসা, দুঃখ, কষ্ট, ক্রোধ, হিংসা ইত্যাদি মানসিক প্রক্রিয়ার সঞ্চার ঘটানোর জন্য মস্তিষ্কে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের প্রয়োজন হয় যার নাম 'Cerebral hemisphere (সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার)'। এই অংশটিও সাপেদের মস্তিষ্কে থাকেনা, যার ফলে সাপেদের মধ্যে কোনো সুপ্তক্ষোভ কাজ করেনা। আর ক্ষোভ না থাকলে প্রতিশোধ নেয়ার বিষয়টিও অযৌক্তিক। তাহলে বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণ হয়েই গেলো সাপেরা প্রতিশোধ নিতে অক্ষম। তাহলে এখন প্রশ্ন হলো গ্রামাঞ্চলে প্রায়ই সাপের প্রতিশোধ নিতে আসার ঘটনা ঘটে, এটা কীভাবে হয়? প্রথম কারণ হতে পারে গ্রামাঞ্চলে সাপের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি, কিন্তু সাধারণ মানুষ সাপ না চেনায় কোনো সাপ মারার পর অন্য প্রজাতির সাপ দেখলেও ভাবে যে সাপকে মারা হয়েছে সেটাই অথবা তার সঙ্গি প্রতিশোধ নিতে এসেছে! সাপেরা যখন ইচ্ছা তখনই প্রজনন করতে পারে না। স্ত্রী সাপ প্রজননে আগ্রহী হলে চলার পথে তারা তাদের পায়ূ থেকে একধরণের গন্ধক তরল নিঃসরণ করতে করতে যায়। এই তরলকে ফেরোমোন বলে, এটি একটি ইক্টোহরমোন। এই তরলের গন্ধে আশেপাশে থাকা পুরুষ সাপেরা আকর্ষিত হয়ে গন্ধ অনুসরণ করতে করতে স্ত্রী সাপকে খুঁজে বের করে। তো, কোনো স্ত্রী সাপ যখন মিলনে আগ্রহী থাকে এবং ফেরোমন নিঃসরণ করে সেসময় যদি সাপটাকে মারা হয় তাহলে সাপের পায়ূ থেকে নিসৃত ফেরোমন লাঠিতে লেগে যায় এবং সেই লাঠিটা যখন পরিষ্কার না করেই রেখে দেয়া হয় তখন আশেপাশে থাকা একই প্রজাতির পুরুষ সাপেরা লাঠিতে থাকা ফেরোমনের গন্ধে আকর্ষিত হয়ে লাঠির আশেপাশে চলে আসে। আর এই ঘটনারই ভুল ব্যখ্যা দিয়ে গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ একে প্রতিশোধ নিতে আসা বলে। এই আলোচনা থেকে পুরোপুরি পরিষ্কার হওয়া যায় সাপ একদমই প্রতিশোধ নিতে অক্ষম।

নাবিদ আল জুবায়ের

নাবিদ আল জুবায়ের

Facebook প্রোফাইল ↗

Organizing secretary, WSRTBD.

সাপ ও বন্যপ্রাণী - রেসকিউ বিডি
Google Play Google Play থেকে ফ্রি নামান ★ ৪.৯ রেটিং • সম্পূর্ণ বিনামূল্যে
⚕️ জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা

এই নিবন্ধের সকল তথ্য জনসচেতনতামূলক ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। সাপে কামড়ের ক্ষেত্রে অবিলম্বে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা সরকারি জেলা সদর হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।

সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় নিবন্ধ

সবগুলো দেখুন →