মাঝে মধ্যে মৃত স্ত্রী সাপের সাথে মিলনরত অবস্থায় দেখা যায় পুরুষ সাপকে। কেন?
২০২০ এর শেষের দিকে বাংলাদেশে একটি সংবাদ ব্যপকভাবে ছড়িয়ে পরে, বিস্মিত করে সাধারণ মানুষকে। ঢাকার একটি হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য আসা লা*শগুলোকে ধ...
২০২০ এর শেষের দিকে বাংলাদেশে একটি সংবাদ ব্যপকভাবে ছড়িয়ে পরে, বিস্মিত করে সাধারণ মানুষকে। ঢাকার একটি হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য আসা লা*শগুলোকে ধ*র্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়। সন্দেহভাজন ডোম নিশ্চিত করেন তার নৃশংসতার সত্যতা! নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণের পর মনোচিকিৎসকগণ জানান উক্ত অপরাধী ভুগছেন একটি বিশেষ মানসিক রোগে। রোগটির নাম নেক্রোফিলিয়া। নেক্রোফিলিয়া শব্দটির বুৎপত্তি দুটো গ্রীক শব্দ ফিলিওস (আকর্ষণ/ভালোবাসা) এবং নেক্রোস (মৃ*তদেহ) থেকে। এই রোগে আক্রান্ত মানসিক রোগীরা মৃ*তদেহের প্রতি তীব্র যৌন আকর্ষণ অনুভব করেন। এতো গেল সৃষ্টির সেরা জীব তথা মানুষের কথা। প্রাণীকুলের অন্যান্য প্রাণীর মধ্যেও নেক্রোফিলিয়ার অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে। স্তন্যপায়ী, পাখি, সরীসৃপের মধ্যে নেক্রোফিলিয়ার বহু প্রমাণ মিলেছে। আমি যেহেতু সাপ নিয়ে বেশি আগ্রহী, তাই সাপেদের এমন আচরণের পেছনের রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করেছি। সাপেরা জীবণ ঝুঁকিতে থাকলে এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা থেকে বের হওয়ার কোনো পথ না পেলে এদের পায়ূ থেকে কিছু গন্ধক তরল তথা ফেরোমন নির্গত করে। শিকারী এই তীব্র গন্ধ সহ্য করতে না পেরে সাপকে ছেড়ে দেয় এবং সাপও প্রাণে বেঁচে যায়। তবে প্রজনন ঋতুতে সাপেরা বিপরীত লিঙ্গকে আকর্ষণ করতে নিজ ইচ্ছায় ফেরোমন নির্গত করে। সাপেরা চলার পথে ফেরোমন ছাড়তে ছাড়তে যায় এবং বিপরীত লিঙ্গের সাপেরা সেই পথ অনুসরণ করে মিলনে আগ্রহী সাপকে খুঁজে বের করে। প্রজনন মৌসুমে স্ত্রী সাপই সাধারণত ফেরোমন নির্গত করে। যখন মিলনে আগ্রহী কোনো স্ত্রী সাপকে মে*রে ফেলা হয় তখনই মূল গন্ডগোলের সৃষ্টি হয়।
মিলনে আগ্রহী কোনো স্ত্রী সাপকে আঘাত করলে তার পায়ূ থেকে ফেরোমন বের হতে পারে এবং মৃ*ত্যুর পরেও এটা চলমান থাকতে পারে। যদি এমন ঘটনা ঘটে এবং আশেপাশে একই প্রজাতির আগ্রহী কোনো পুরুষ সাপ থাকে তখন পুরুষ সাপটা ফেরোমন শনাক্ত করে চলে আসতে পারে। মৃ*ত স্ত্রী সাপটার কাছে চলে এসে আগ্রহী পুরুষ সাপটা বুঝতে পারেনা তার সঙ্গি মৃত! এদের মস্তিষ্ক এতটাই অনুন্নত। পুরুষ সাপটা নিজেই সঙ্গম সম্পন্ন করে স্থান ত্যাগ করে! যে সকল সাপের ফেরোমন নির্গমনের প্রবণতা বেশি সেসকল সাপেদের ক্ষেত্রে এই ঘটনা বেশি দেখা যায়। যেমন আমাদের দেশের জলঢোঁড়া। এটাকে ঠিক নেক্রোফিলিয়া বলা যাবে কিনা তা নিয়ে কিছুটা সন্দেহ আছে আমার। পুরুষ সাপটা ফেরোমোনের গন্ধে আকৃষ্ট হয়ে স্বাভাবিক নিয়মেই সঙ্গমে লিপ্ত হয়৷ সে বুঝতে পারেনা তার সঙ্গি মৃ*ত। তবে যেহেতু মৃ*তের সাথে সঙ্গম করছে, তাই পুরুষ সাপটাকে নেক্রোফিলিক বলা যায় হয়তো। এটা মোটামুটি বিরল একটা বিষয়। তাই সচরাচর চোখে পরে না। যারা সাপ নিয়ে বহুবছর ফিল্ডে কাজ করছেন তাদের সৌভাগ্য হয়েছে এমন দৃশ্যের সাক্ষী হওয়ার।
নাবিদ আল জুবায়ের
Facebook প্রোফাইল ↗Organizing secretary, WSRTBD.
এই নিবন্ধের সকল তথ্য জনসচেতনতামূলক ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। সাপে কামড়ের ক্ষেত্রে অবিলম্বে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা সরকারি জেলা সদর হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।