সচেতনতা ও গাইড ⏱️ 4 মিনিটের পাঠ 👁️ 180 বার পঠিত

বিষধর-নির্বিষ সম্পর্কে অনেক জেনেছেন, জানছেন। আজ আলোচনা করবো বিষাক্ত (poisonous) সাপ নিয়ে।

শুরুতেই বিষাক্ত(poisonous) আর বিষধর (venomous) এর পার্থক্য বলি। বিষাক্ত (poisonous) মানে বিষে অক্ত। এক কথায় বিষাক্ত মানে বিষ মিশ্রিত। কোনো প্রাণীর চা...

নাবিদ আল জুবায়ের
নাবিদ আল জুবায়ের
বিষধর-নির্বিষ সম্পর্কে অনেক জেনেছেন, জানছেন। আজ আলোচনা করবো বিষাক্ত (poisonous) সাপ নিয়ে।

শুরুতেই বিষাক্ত(poisonous) আর বিষধর (venomous) এর পার্থক্য বলি। বিষাক্ত (poisonous) মানে বিষে অক্ত। এক কথায় বিষাক্ত মানে বিষ মিশ্রিত। কোনো প্রাণীর চামড়া, মাংস, রক্ত, সারা শরীরে যদি বিষ থাকে তাহলে সেটা বিষাক্ত প্রাণী। বিষাক্ত প্রাণীর বিষের কার্যকারিতা শুরু হওয়ার জন্য কোনো মাধ্যম প্রয়োজন নেই, বিষাক্ত প্রাণীকে খেলে এমনকি তাকে স্পর্শ করলেও বিষের ইফেক্ট শুরু হয়ে যায়। অপরদিকে বিষধর (venomous) মানে যে বিষ ধারণ করে। বিষধর প্রাণীর সারা শরীরে বিষ থাকে না, সে নির্দিষ্ট একটা যায়গায় বিষ ধারণ করে। বিষধর সাপের বিষের কার্যকারিতা প্রকাশ পাওয়ার জন্য মাধ্যম প্রয়োজন। রক্তের সংস্পর্শে না আসলে বিষধর সাপের বিষ কাজ করবে না। সাপ মূলত তাদের ভেনোম গ্লান্ডে বিষ উৎপন্ন করে সংরক্ষণ করে। বিষদাঁতের সাহায্যে সেই বিষ প্রাণীর শরীরে প্রবেশ করিয়ে রক্তের সাহায্যে বিষের কার্যকারিতা প্রকাশ করে। প্রথমেই বলে রাখি, সাপ পয়েজন উৎপাদনে অক্ষম। সে নিজে থেকে পয়েজন উৎপন্ন করতে পারে না। ও যখন বিষাক্ত কোনো খাদ্য খায় তখন তার খাদ্যের পয়েজনের মিশ্রণ টা আলাদা করে সংরক্ষণ করে। বিদেশি সাপ “গার্টার স্নেক” তার সৌন্দর্যের জন্যে আমাদের অনেকের কাছেই পরিচিত। এরা নিউরোটক্সিন সমৃদ্ধ মৃদু বিষধর সাপ। জানলে অবাক হবেন, বিশেষ এক পদ্ধতিতে এই গার্টার স্নেকও বিষাক্ত হতে পারে! একপ্রকার salamander পাওয়া যায়, যেগুলোকে newt বলা হয়। তারা চামড়াতে টেট্রোডোটক্সিন বা TTX বিষ ধারণ করে। এরা একজন স্বাভাবিক মানুষকে মেরে ফেলার জন্যে পর্যাপ্ত বিষ ধারণ করে। এদের প্রধান খাদক গার্টার স্নেক। এটাকে খাওয়ার সময় চামড়া থেকে বিষ নিঃস্বরণ করে কিছু নিউটস বেঁচেও যায়। তবে বেশিরভাগ নিউটস গার্টারের শিকার হয়। নিউটসের চামড়ার বিষটুকু গার্টারদের লিভারে জমা হয়। শিকার যখন গার্টারকে খেতে যায়, বিশেষ করে পাখিরা গার্টারদের খাওয়ার সময় ওর লিভারটা খেয়ে বাকিঅংশ ফেলে দেয়। পাখিরা এই সাপের লিভার খাওয়ার সময় সংরক্ষিত TTX এর শিকার হয়। আক্রান্ত পাখি অতিরিক্ত বমি করতে করতে মারাও যেতে পারে! এবার দেশীয় বিষাক্ত সাপের দিকে আসা যাক। বাংলাদেশের সরকারী তথ্য মতে বন্যপ্রাণীর তালিকায় একটা মাত্র বিষাক্ত সাপের নাম পাওয়া। যেটাকে red necked keelback বা লাল-ঘাড় ঢোঁড়া নামে জানি আমরা। আগেই বলেছি বিষাক্ত সাপ কখনোই নিজে পয়েজন উৎপন্ন করতে পারেনা, এটাও পারেনা৷ এরা মূলত বিষাক্ত ব্যাঙ (toads) খেয়ে তাদের থেকে বিষ সংগ্রহ করে। পয়েজন সংরক্ষণের জন্য এদের ঘাড়ের উপরে চামড়ার নিচে দুই সারি ছোট ছোট গ্রন্থি থাকে, যেগুলোকে নিউচাল গ্লান্ড (nuchal gland) বলে। প্রতি সারিতে ১২-১৫ টা ছোট ছোট গোলাকার গ্রন্থি দেখা যায়। এরা একবার বিষাক্ত ব্যাঙ (toads) খেলে বেশ কিছুদিন সেই ব্যাঙ থেকে প্রাপ্ত পয়েজন দিয়ে নিজেদের আত্মরক্ষা করতে সক্ষম।

এদের ঘাড়ের গ্রন্থি গুলো খাদ্য থেকে bufotoxins, specifically “bufadienolides” নামক পয়েজন শনাক্ত করে সংগ্রহে সক্ষম। bufadienolides মূলত কার্ডিওটক্সিনের পয়েজন ফর্ম। এর প্রভাবে হুট করেই হৃৎস্পন্দনের তারতম্য দেখা যায়। খুব দ্রুত হৃদযন্ত্রের স্পন্দনের গতি বেড়ে যেতে পারে, অথবা হুট করেই কমে যেতে পারে। এমন তারতম্যের ফলে ভিক্টিম কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শিকার হয়। কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ফলে রোগীর হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বন্ধ হয়ে রোগীর মৃত্যু ঘটার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। এরা যে শুধু বিষাক্ত ব্যাঙ (toads) খেয়েই পয়েজন সংরক্ষণ করে বিষয়টা এমন না। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে কিছু fireflys বা জোনাকি থেকেও “bufadienolides” পয়েজন উৎপন্ন হয়। Rhabdophis গণের সাপেদের পেট থেকে এজাতীয় বিষাক্ত জোনাকির লার্ভাও পাওয়া গেছে। এ থেকে বোঝা যায় বিষাক্ত সাপেরা কিছু প্রজাতির জোনাকি থেকেও পয়েজন সংগ্রহে সক্ষম। শুধু লাল ঘাড় ঢোঁড়া নয়, এখনপর্যন্ত চলমান গবেষণা অনুযায়ী বিশ্বে মোট ৩,৫০০ প্রজাতির সাপেদের মধ্যে ১৭ প্রজাতি সাপেদের ঘাড়ের উপর চামড়ার নিচে নিউচাল গ্লান্ড (nuchal gland) উপস্থিত। মানে এখনপর্যন্ত মোট ১৭ প্রজাতির সাপ পাওয়া গিয়েছে যারা ঘাড়ের সাহায্যে পয়েজন প্রয়োগ করতে সক্ষম। জানলে অবাক হবেন, ১৭ টা প্রজাতিই এশিয়া মহাদেশের অন্তর্ভুক্ত। এশিয়ার বাইরে ঘাড় থেকে বিষ প্রয়োগে সক্ষম এমন কোনো সাপ পাওয়া যায়নি। অনেকের ধারণা শুধুমাত্র Rhabdophis গণের সাপেরাই পয়েজন প্রয়োগে সক্ষম। এটা ভুল... লেটেস্ট আপডেট অনুযায়ী ৩ টা গণের সাপ পয়েজন সংরক্ষণ এবং প্রয়োগে সক্ষম। 1. Balanophis 2. Macropisthodon 3. Rhabdophis এর মধ্যে Macropisthodon এবং Rhabdophis গণের সাপেদের মধ্যে অবিষাক্ত সাপও রয়েছে। আমার জানা মতে দেশে ৩ প্রজাতির বিষাক্ত ব্যাঙ (toads) পাওয়া যায়ঃ • Duttaphrynus himalayanus • Duttaphrynus melanostictus • Duttaphrynus stomaticus এখন যদি কোনো লাল-ঘাড় ঢোঁড়া এমন এলাকায় বিচরণ করে, যেখানে এই ৩ প্রজাতির টোড'স এর একটিও পাওয়া যায়না। তাহলে ওই সাপটাকেও বিষাক্ত বলা যাবে না। সাপটা তখনই বিষাক্ত হবে যখন তার এলাকায় কোনো বিষাক্ত ব্যাঙ (toad) থাকবে এবং সে তাকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করবে। তখন খাদ্য থেকে প্রাপ্ত Bufadienolides সংরক্ষণ করে সে নিজেও বিষাক্ত হয়ে যাবে। সবথেকে বড় কথা পয়েজন-ভেনোম সবকিছুই ভৌগলিক অবস্থান,আবহাওয়ার, খাদ্যাভ্যাসের উপর নির্ভরশীল। আর এইসকল চাহিদার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশি টোড'স প্রাণঘাতী বিষের অধিকারী না। লালঘাড় ঢোঁড়া যেহেতু টোড'স থেকেই পয়েজন উৎপন্ন করে তাই এদেশের লালঘাড় ঢোঁড়াও তেমন তীব্র বিষের অধিকারী নয়৷ এদের বিষের প্রভাবে মৃত্যু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। মাথা ঘুরতে পারে, অস্থিরতা প্রকাশ পেতে পারে, হৃৎস্পন্দণে সামান্য তারতম্য দেখা দিতে পারে, বমি বমি ভাব, মাথাব্যথা এরকম লক্ষণ প্রকাশ পাবে সর্বচ্চো। এর পয়েজন হাতে লাগলে চোখ, নাক, মুখে হাত না দিয়ে সাবাদ দিয়ে হাত ভালোভাবে ধুয়ে ফেললেই চলবে।

নাবিদ আল জুবায়ের

নাবিদ আল জুবায়ের

Facebook প্রোফাইল ↗

Organizing secretary, WSRTBD.

সাপ ও বন্যপ্রাণী - রেসকিউ বিডি
Google Play Google Play থেকে ফ্রি নামান ★ ৪.৯ রেটিং • সম্পূর্ণ বিনামূল্যে
⚕️ জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা

এই নিবন্ধের সকল তথ্য জনসচেতনতামূলক ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। সাপে কামড়ের ক্ষেত্রে অবিলম্বে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা সরকারি জেলা সদর হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।

সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় নিবন্ধ

সবগুলো দেখুন →