বিভিন্নপ্রকার সর্প বিষ ও এদের কার্যকারীতা
অনেকেই হয়তো কয়েক প্রকার বিষের নাম জানেন, কিন্তু এদের কার্যকারীতা সম্পর্কে তেমন সুস্পষ্ট ধারণা নেই বেশিরভাগ মানুষেরই। শুরুতেই বলেরাখি এটা অনেক বিস্তার...
অনেকেই হয়তো কয়েক প্রকার বিষের নাম জানেন, কিন্তু এদের কার্যকারীতা সম্পর্কে তেমন সুস্পষ্ট ধারণা নেই বেশিরভাগ মানুষেরই। শুরুতেই বলেরাখি এটা অনেক বিস্তারিত আলোচনার বিষয়, আমি একদমই অল্প লেখার চেষ্টা করবো, নাহলে পোস্ট টা বড় হয়ে যাবে। তো চলুন মূল আলোচনা শুরু করা যাক। মূল আলোচনাঃ সাপের বিষ প্রধাণত ৪ প্রকার। যথা- proteolytic (প্রোটিওলাইটিক) venom, hemotoxin (হেমোটক্সিন) venom, neurotoxin (নিউরোটক্সিন) venom, and cytotoxin (সাইটোটক্সিন) venom. প্রোটিওলাইটিক বিষকে প্রায়ই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয় কারণ এটি সমস্ত বিষধর সাপের কামড়ে উপস্থিত থাকে। এছাড়াও আরো কিছু বিষের সন্ধান পাওয়া যায়, যেগুলো হলোঃ cardiotoxin (কার্ডিওটক্সিন) venom, nephrotoxin (নেফ্রোটক্সিন) venom, myotoxin (মায়োটক্সিন) venom. বিস্তারিতঃ 1. proteolytic- প্রোটিওলাইটিক বিষে প্রোটিওলাইটিক এনজাইম থাকে যা সমস্ত বিষধর সাপের মধ্যেই পাওয়া যায়। এটি টিস্যু কাঠামোর অবক্ষয় ঘটায়। বিশেষত বিষটি পেশী, টিস্যু সহ রক্তনালীর দেয়াল ভেঙে দেয়। র্যাটলস্নেক এবং অন্যান্য পিট ভাইপারগুলিতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিওলাইটিক বিষ পাওয়া যায়, যা তাদের হেমোটক্সিন বিষের সাথে কাজ করে ধ্বংসাত্মক ক্ষত সৃষ্টি করে। 2. hemotoxin- হেমোটক্সিন বিষ ভিক্টিমের শরীরের লোহিত রক্তকণিকা ধ্বংস করে, টিস্যু এবং আক্রান্ত অঙ্গগুলিকেও প্রভাবিত করে। হেমোটক্সিন বিষ ইনজেক্ট করার ফলে চারপাশের কোষ এবং টিস্যু ভেঙে যায়, ফলে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। এই বিষের প্রভাবে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে বা রক্ত জমাট নাও বাঁধতে। উভয় পরিস্থিতিই ভয়াবহ হতে পারে। এটির প্রভাবে আক্রান্ত অঙ্গ হারানো এবং ব্যাপক অভ্যন্তরীণ রক্তপাত ঘটতে পারে। হেমোটক্সিন বিষ অন্যান্য ধরনের সাপের বিষের তুলনায় ধীরে কাজ করে। ফলে রোগী অ্যান্টিভেনোম নেয়ার জন্যে যথেষ্ট সময় পায়। র্যাটলস্নেক, রাসেল'স ভাইপার এবং কপারহেডস এগুলো হেমোটক্সিন বিষযুক্ত সাপ। 3. neurotoxin- নিউরোটক্সিন বিষ ভিক্টিমের স্নায়ুতন্ত্রকে মারাত্মক প্রভাবিত করে। এর প্রভাবে ভিক্টিম পেশী-পক্ষাঘাত, ব্রেইন ড্যামেজ এবং সেন্সলেসের শিকার হতে পারে। এই ধরণের বিষ শরীরের বিভিন্ন অংশের চারপাশে স্নায়ু প্রবণতাকে বাধা দেয়, কিছু ক্ষেত্রে এটা খুব দ্রুত কাজ করে। নিউরোটক্সিন বিষ শরীরে প্রবেশ করে নার্ভাস সিস্টেমে আঘাত করায় লক্ষণ প্রকাশের আগে কিছুক্ষেত্রে রেগী বুঝতেই পারেনা তাকে সাপে কামড়েছে! বাংলাদেশে কোবরা ও ক্রেইট প্রজাতীর সাপ গুলো নিউরোটক্সিন সমৃদ্ধ সাপ।
4. cytotoxin- সাইটোটক্সিন বিষ কোষকে মেরে ফেলে। এই ধরনের বিষ প্রায়ই কোবরা এবং অন্যান্য ইলাপিডে পাওয়া যায়। এই বিষ হেমোটক্সিন বা নিউরোটক্সিন বিষের মতো মারাত্মক নয়। এর প্রভাবে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা হ্রাস পেতে পারে অথবা অক্ষম হয়ে যেতে পারে! এই বিষটি ত্বক এবং অন্তর্নিহিত টিস্যুগুলির মারাত্মক ক্ষতি করে। 5. Cardiotoxin- কার্ডিওটক্সিন বিষ নিউরোনালের মেমব্রেইন এবং হৃৎপিন্ডের কার্ডিয়াক পেশির কোষে আঘাত করে। ফলে হার্ট অ্যাটাকের প্রবল সম্ভাবনা থাকে। ব্লাক-নেক স্পিটিং কোবরা সহ দেশীয় কোবরা প্রজাতীর মধ্যেও সামান্য পরিমাণ কার্ডিওটক্সিন পাওয়া যায়। ফলে কোবরার কামড়ে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা থাকে। 6. nephrotoxin- নেফ্রোটক্সিন কিডনির নেফ্রোনে আঘাত করে, এবং নেফ্রনকে নষ্ট করতে থাকে। একটা সুস্থ কিডনিতে ১০-১২ লক্ষ নেফ্রোন থাকে। নেফ্রোনের কাজ মূলত একটি জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফিল্টারিং করা। এটা নষ্ট হওয়ার ফলে ভিকটিমের কিডনি গুলো ড্যামেজ হতে শুরু করে। দেশে লাল ঘাড় ঢোঁড়া সাপের বিষের ধরণ নেফ্রোটক্সিন। কিন্তু এরা ওফিসটোগ্লাইফা যুক্ত সাপ হওয়ায় সহজে বিষ ইনজেক্ট করতে পারেনা। 7. myotoxin- মায়োটক্সিন বিষ স্কেলেটাল মাসেল এবং কার্ডিয়াক টিস্যু ড্যামেজ করে। কার্ডিয়াক টিস্যুতে অ্যাটাক করে বলে এই বিষের প্রভাবেও হার্ট অ্যাটাকের প্রবল সম্ভাবনা থাকে! র্যাটলস্নেক এর বিষে মায়োটক্সিনের মিশ্রণ পাওয়া যায়।
নাবিদ আল জুবায়ের
Facebook প্রোফাইল ↗Organizing Secretary, WSRTBD
এই নিবন্ধের সকল তথ্য জনসচেতনতামূলক ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। সাপে কামড়ের ক্ষেত্রে অবিলম্বে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা সরকারি জেলা সদর হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।