বাংলাদেশের সবচেয়ে বিষধর সাপ
কোন্ প্রজাতির সাপ মানুষের জন্য কতটা বিপজ্জনক, কতটা প্রাণঘাতী এগুলো নির্ভর করে আলাদা কিছু বিষয়ের উপরে। প্রথমত, সাপটির বিষের তীব্রতা দ্বিতীয়ত, সাপটির ...
কোন্ প্রজাতির সাপ মানুষের জন্য কতটা বিপজ্জনক, কতটা প্রাণঘাতী এগুলো নির্ভর করে আলাদা কিছু বিষয়ের উপরে। প্রথমত, সাপটির বিষের তীব্রতা দ্বিতীয়ত, সাপটির বিষ ঢালার পরিমান এবং তৃতীয়ত, লোকালয়ে সাপটির প্রাপ্যতা কেমন...... এই পোস্টটিতে শুধুমাত্র সাপের বিষের তীব্রতার উপরে নির্ভর করে বাংলাদেশের সবচেয়ে বিষধর সাপ কোনটি সেটা বলা হয়েছে। একটা সাপ কতটা বিষধর তা নির্ধারণ করা হয় মিডিয়ান লেথাল ডোজ LD50 এ সাপটির বিষের মাত্রা পরিমাপ করে।নিম্নোক্ত চার'রকম ভাবে পরীক্ষাটি করা যায় : (i) Subcutaneous : চামড়ার নীচের চর্বি যুক্ত স্তরে বিষ প্রবেশ করিয়ে। (ii) Intravenous : বিষ সরাসরি শিরায় প্রবেশ করিয়ে। (iii) Intramuscular : বিষ মাংপেশীতে প্রবেশ করিয়ে। (iv) Intraperitoneal : বিষ পেটে প্রবেশ করিয়ে। সাধারণত Subcutaneous এবং Intravenous পরীক্ষা দুটোই বেশী করা হয়। এর মধ্যে আবার Subcutaneous (SC) পরীক্ষাটি বেশী নির্ভরযোগ্য।কেননা, সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে বেশীরভাগ কামড় হয় Subcutaneous (চামড়ার নীচে)। Intravenous কামড় প্রায় নেই বললেই চলে আর ভাইপার প্রজাতির কিছু সাপ যাদের বিষদাঁত তুলনামূলক বড় তারা Intramuscular কামড় দিয়ে থাকে। এই LD50 পরীক্ষার হিসেবে, যে সাপের LD50 মাত্রা যত কম হবে, সেই সাপ তত বেশী বিষধর।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বিষধর সাপ কোনটি? বাংলাদেশে প্রাপ্ত বিষধর সাপগুলোর মধ্যে (জলে এবং স্থলে) LD50 পরীক্ষায় সবচেয়ে বিষধর সাপ হচ্ছে 'Yellow-bellied sea snake বা হলুদ-পেট সামুদ্রিক সাপ'। এই সাপের বিষের মাত্রা LD50 পরীক্ষায় 0.067 mg/kg (SC). এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বিষধর সাপ তো বটেই এমনকি সাপটি বিশ্বের সবচেয়ে বিষধর সাপের তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে (এখন পর্যন্ত)। 'Yellow-bellied sea snake বা হলুদ পেট সামুদ্রিক সাপ' হচ্ছে Elapidae পরিবারের, Hydrophiinae উপ-পরিবারের, Hydrophis গণের একটি অত্যন্ত বিষধর প্রজাতির সাপ।এর বৈজ্ঞানিক নাম 'Hydrophis platurus'. পূর্বে এটিকে Pelamis গণের অন্তর্ভুক্ত রাখা হলেও, বর্তমানে একে Hydrophis গণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে এর দুটি উপ-প্রজাতি বিদ্যমান : (i) Hydrophis platurus platurus এবং (ii) Hydrophis platurus xanthos Yellow-bellied sea snake বিশ্বে সর্বাধিক বিস্তৃত সর্প প্রজাতির একটি।বেশীর ভাগ সমুদ্র বেষ্টিত দেশ এবং দ্বীপের উপকূলীয় অঞ্চলে এদের দেখা মেলে। এই প্রজাতির সাপগুলো আকারে খুব একটা বড় হয় না।সাধারণত ছেলে সাপ গুলো ২.৬ ফুট এবং মেয়ে সাপেরা ৩.২ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। Yellow-bellied sea snake উষ্ণ জলে বংশবৃদ্ধি করে।এরা 'ovoviviparous' প্রকৃতির সাপ।অর্থাৎ, মা সাপের পেটেই ডিম নিষিক্ত হয়ে বাচ্চা বাইরে বেড়িয়ে আসে। খাবার হিসেবে এরা সামুদ্রিক মাছের উপর নির্ভর করে। সমুদ্রে এরা সামনে এবং পেছনে উভয়দিকে সাঁতার কাটতে পারে, যেটা এদের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। Yellow-bellied sea snake - এর বিষ মূলত 'নিউরোটক্সিনস'।তবে এর সাথে আরো দুই ধরণের 'আইসোটক্সিনস' মিশ্রিত থাকে। এদের বিষের তীব্রতা অনেক বেশী হলেও এরা খুবই অল্প পরিমাণে বিষ প্রয়োগ করে।শিকারের দেহে প্রতি কামড়ে এরা মাত্র 1.0 - 4.0 mg বিষ ঢালে।বিষের তীব্রতা অনেক বেশী হওয়ায় এই অল্প পরিমাণই যেকোন শিকারের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং প্রানঘাতী। সামুদ্রিক সাপেরা সাধারণত খুবই শান্তপ্রকৃতির হয়।এরা সহজে মানুষকে কামড়ায় না, আবার কামড়ালেও বেশীরভাগ ক্ষেত্রে ড্রাই বাইট দেয় অর্থাৎ বিষ প্রয়োগ করে না। সমুদ্রে বা সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে এদের দেখতে পেলে, এদের থেকে দূরে থাকুন। এতে সাপ এবং আপনি দুজনারই কোন ক্ষতির সম্ভাবনা থাকবে না। Photo : Chris Kirby
প্রিতম সুর রয়
Facebook প্রোফাইল ↗President, SRTBD
এই নিবন্ধের সকল তথ্য জনসচেতনতামূলক ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। সাপে কামড়ের ক্ষেত্রে অবিলম্বে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা সরকারি জেলা সদর হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।