সচেতনতা ও গাইড ⏱️ 4 মিনিটের পাঠ 👁️ 180 বার পঠিত

ঘোড়া নিয়ে কিছু ভ্রান্ত ধারণার জবাব

ফেসবুকের অকল্যাণে অনেক সময়ই ঘোড়া নিয়ে কিছু ভ্রান্ত ধারণা ছড়াতে দেখা যায়। যেগুলো অনেকটা এরকম - 'পৃথিবীর সবচেয়ে বিষধর সাপের কামড়ে হাতি মারা যায়, কিন...

মো: নাফিউল ইসলাম
মো: নাফিউল ইসলাম
ঘোড়া নিয়ে কিছু ভ্রান্ত ধারণার জবাব

ফেসবুকের অকল্যাণে অনেক সময়ই ঘোড়া নিয়ে কিছু ভ্রান্ত ধারণা ছড়াতে দেখা যায়। যেগুলো অনেকটা এরকম - 'পৃথিবীর সবচেয়ে বিষধর সাপের কামড়ে হাতি মারা যায়, কিন্তু একটা প্রাণী মরে না, সেটা হচ্ছে ঘোড়া।' 'ঘোড়াকে যে সাপই কাটুক না কেন, ঘোড়া সর্বোচ্চ তিন দিন অসুস্থ থাকার পর সুস্থ হয়ে ওঠে।' এসব ১০০% ভুয়া তথ্য। কিছু কিছু প্রাণীর শরীরে প্রাকৃতিকভাবে সাপের বিষের রেজিস্ট্যান্স থাকে, যেমন হানি ব্যাজারের কোবরা ভেনমের প্রতি প্রায় সম্পূর্ণ রেজিস্ট্যান্স আছে। কিন্তু ঘোড়ার এরকম কোনো প্রাকৃতিক রেজিস্ট্যান্স নাই। একটা সাধারণ ঘোড়াকে যদি তার লিথ্যাল ডোজের পরিমাণ বিষ দেওয়া যায়, ঘোড়া মরতে বাধ্য। হাতির শরীর ঘোড়ার চাইতে অনেক বড়, তাই হাতিকে মারার জন্য ঘোড়ার চাইতেও বেশি বিষের প্রয়োজন হবে। যে বিষ হাতিকে মারতে পারে, সে বিষ অবশ্যই ঘোড়াকেও মারতে পারবে। প্রাপ্তবয়স্ক ঘোড়াগুলো আকারে অনেক বড়। অনেক সাপের কামড়ে ইঞ্জেক্ট করা বিষ ঘোড়াকে মারার জন্য প্রয়োজনীয় লিথ্যাল ডোজের চাইতে কম। তাই ঘোড়াকে অত মরতে দেখা যায় না। কিন্তু বিষ বেশি দিলে মারা যাবে। তাহলে ঘোড়া থেকে এ্যান্টিভেনম তৈরি করা হয় কেন? এ্যান্টিভেনম মানুষের শরীর থেকেও তৈরি করা যাবে। যেকোনো ভার্টিব্রেট, যাদের শরীরের ইন্টারনাল গঠনের সাথে মানুষের গাঠনিক মিল আছে, তাদের সবার শরীর থেকেই এ্যান্টিভেনম তৈরি করা সম্ভব। বিশ্বের প্রথম কার্যকরী সাপের বিষের এন্টিভেনম তৈরি করা হয় খরগোশের রক্ত থেকে। প্রায় দুইশ বছর আগে থেকে ইন্ডিয়ান কিছু সাপুরেরা নিজেদের শরীরে বছরের পর বছর অল্প অল্প করে বিষ ইঞ্জেক্ট করে স্বল্প মাত্রায় প্রতিষেধক তৈরি করত। এ্যান্টিভেনম তৈরির এই আইডিয়াটা বিজ্ঞানীরা পায়ই ওই সাপুরেদের দেখে। প্রসেসটাকে Mithridatism বলে। গুগল করে দেখতে পারেন।

ঘোড়াকে ব্যবহারের প্রধান কারণ ঘোড়া আকারে অনেক বড়। হাতিও আকারে অনেক বড়, কিন্তু ঘোড়ার চাইতে হাতিকে পাওয়া বা পরীক্ষা চালানো একটু কষ্টসাধ্য, তাই ঘোড়াকে ব্যবহার করা হয়। ঘোড়ার শরীরে আস্তে আস্তে কম কম ভেনম প্রয়োগ করে রক্তে রেজিস্ট্যান্স তৈরি করা হয়। আর এই প্রসেসটা সম্পন্ন করতে কয়েক মাস লেগে যায়, ভুলেও তিন দিনের কাজ না। আর ঘোড়ার রক্তে পাওয়া কিছু এ্যাডিশনাল উপাদান অনেক মানুষের শরীর এ্যাকসেপ্ট করতে চায় না। এজন্য এ্যালার্জেটিক রিয়াকশন দেখা যায়। মানুষের শরীর থেকে এ্যান্টিভেনম তৈরি হলে সেটাতে হয়ত এরকম কোনো এ্যালার্জেটিক রিয়াকশন থাকত না, বা কম থাকত। যাইহোক, আশা করি ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছেন। ভবিষ্যতে কাউকে ঘোড়া নিয়ে ভুয়া তথ্য ছড়াতে দেখে বিভ্রান্ত হবেন না।

মো: নাফিউল ইসলাম

মো: নাফিউল ইসলাম

Facebook প্রোফাইল ↗

Moderator, WSRTBD

সাপ ও বন্যপ্রাণী - রেসকিউ বিডি
Google Play Google Play থেকে ফ্রি নামান ★ ৪.৯ রেটিং • সম্পূর্ণ বিনামূল্যে
⚕️ জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা

এই নিবন্ধের সকল তথ্য জনসচেতনতামূলক ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। সাপে কামড়ের ক্ষেত্রে অবিলম্বে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা সরকারি জেলা সদর হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।

সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় নিবন্ধ

সবগুলো দেখুন →