🔴 অতি বিষধর সাপ Venomous

চন্দ্রবোড়া

Daboia russelii · Russell's Viper

🚨 উদ্ধার আবেদন জানান 📞 জরুরি হটলাইন: 16263 🏥 অ্যান্টিভেনম হাসপাতাল
চন্দ্রবোড়া (Russell's Viper)
🔴 অতি বিষধর
চন্দ্রবোড়া ছবি 2
চন্দ্রবোড়া ছবি 3
চন্দ্রবোড়া ছবি 4

এক নজরে পরিচিতি

বিষের ধরন মারাত্মক বিষধর
বৈজ্ঞানিক নাম Daboia russelii
ইংরেজি নাম Russell's Viper
প্রধান বাসস্থান শুষ্ক ও উন্মুক্ত চড় অঞ্চল, বরেন্দ্র এলাকা, নদীর তীরবর্তী ঝোপঝাড় এবং ঘাসযুক্ত মাঠ এদের প্রিয় বাসস্থান।

বিবরণ ও পরিচিতি

এদেশে চন্দ্রবোড়া সাপের বাসস্থান কোথায়? ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রাপ্ত গবেষণা অনুযায়ী দেশের অন্তত ১৭ টি জেলায় চন্দ্রবোড়া সাপের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম হলো সমগ্র বরেন্দ্র অঞ্চল, গড়াই এবং পদ্মা তীরবর্তী অঞ্চল [ জেলার তালিকা ছবিতে সংযুক্ত ]। এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে মুন্সিগঞ্জ সহ দেশের কতিপয় যায়গায় চন্দ্রবোড়া সাপের উপস্থিতি প্রমাণিত হয়েছে। • সাম্প্রতিক সময়ে চন্দ্রবোড়া সাপের বিস্তার এবং সাপ-মানুষ সংঘাতের কতিপয় সম্ভাব্য কারনঃ নাব্যতা সংকটে নতুন চড় সৃষ্টি যা চন্দ্রবোড়া সাপের আদর্শ বাসস্থান। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, সরীসৃপের উপর তাপমাত্রার ব্যপক প্রভাব। তাপমাত্রার পরিবর্তনে সরীসৃপের বাসস্থান কিংবা আচরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্যনীয়। চড় অঞ্চলে কৃষি সম্প্রসারণ, এতে চন্দ্রবোড়ার পছন্দসই শিকার ইঁদুরের প্রভাবে সাপ-মানুষের দুরত্ব কমে যাওয়া। নতুন বাসস্থানের সম্প্রসারণ হলেও পুরোনো বাসস্থান নষ্ট করে ফেলা, এতে সাপ সহসাই জনমানবের কাছাকাছি আসতে বাধ্য হচ্ছে। প্রয়োজনীয় খাদ্যের চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন, এতে শষ্যের প্রাচুর্যে ইঁদুরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে এবং সাপ শিকারে লোভে ইঁদুরের কাছাকাছি বেশি অবস্থান করছে।

চেনার উপায় ও শারীরিক বৈশিষ্ট্য

Russell's viper (Daboia russelii) বা চন্দ্রবোড়া সাপ আমাদের উপমহাদেশে সর্বপ্রথম শনাক্ত করা হয় ১৭৯৭ সালে। George Shaw এবং Frederick Polydore Nodder ১৭৯৭ সালে চন্দ্রবোড়া সাপ নথিভুক্ত করেন। এর আগে ১৭৯৬ সালে সনামধন্য হার্পেটোলজিস্ট Patrick Russell এর লেখা 'An account of Indian serpents, collected on the coast of Coromandel' বইতে চন্দ্রবোড়া সাপের পরিচয় নথিভূক্ত করেছিলেন এবং তার নামের সম্মানেই চন্দ্রবোড়া সাপের নামকরণ Russell’s viper করা হয়। তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশ অখণ্ডিত থাকায় বাংলাদেশ, ভারত কিংবা পাকিস্তানের আলাদা রেকর্ড হবার কোনো প্রশ্নই ছিলোনা, কেননা ঔপনিবেশিক শাসন আমলে ভারতীয় উপমহাদেশকে একটি অঞ্চল বলেই বিবেচনা করা হতো। আলাদা ভাবে স্বাধীন বাংলাদেশে চন্দ্রবোড়া সাপ সর্বপ্রথম ১৯৮২ সালে ' Wildlife of Bangladesh: A Checklist' বইয়ে নথিভূক্ত করেন প্রখ্যাত প্রাণিবিদ আলি রেজা খান স্যার। এবং পরবর্তী সময়ে ১৯৯২ সালে আলি রেজা খান স্যারের লেখা ' বাংলাদেশের সাপ' বইয়ে চন্দ্রবোড়া সাপের উল্লেখ পাওয়া যায়। এথেকে পরিস্কার যে চন্দ্রবোড়া সাপের আদি বাসস্থান বাংলাদেশ, একথা অস্বীকার করে চন্দ্রবোড়া সাপ ভারত থেকে ভেসে এসেছে এমন মনে করার কোনো সুযোগ নেই।

বাসস্থান ও স্বভাব

বাসস্থান: শুষ্ক ও উন্মুক্ত চড় অঞ্চল, বরেন্দ্র এলাকা, নদীর তীরবর্তী ঝোপঝাড় এবং ঘাসযুক্ত মাঠ এদের প্রিয় বাসস্থান।

স্বভাব: এরা নিশাচর এবং অলস প্রকৃতির হলেও খুব দ্রুত ও মারাত্মকভাবে দংশন করতে পারে। মুখোমুখি হলে প্রেশার কুকারের মতো তীব্র জোরে 'হিস হিস' শব্দ করে সতর্ক করে।

⚠️ সাপে কামড়ালে জরুরি করণীয় ও বর্জনীয়

  • শান্ত থাকুন: আতঙ্কিত হবেন না, হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখলে বিষ সহজে ছড়ায় না।
  • অঙ্গ নিশ্চল রাখুন: কামড়ের স্থান বা হাত-পা নাড়াচাড়া করবেন না। স্প্লিন্ট দিয়ে স্থির করুন।
  • টাইট বাঁধন দেবেন না: দড়ি বা তার দিয়ে শক্ত গিট দেবেন না, এতে অঙ্গ পচে যেতে পারে।
  • কাটাকাটি নিষেধ: কামড়ের স্থানে ব্লেড বা ছুরি দিয়ে রক্তপাত করাবেন না।
  • ওঝার কাছে যাবেন না: অবিলম্বে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা সদর হাসপাতালে যান।
সম্পূর্ণ ফার্স্ট এইড গাইড পড়ুন →
সাপ ও বন্যপ্রাণী - রেসকিউ বিডি
Google Play Google Play থেকে ফ্রি নামান ★ ৪.৯ রেটিং • সম্পূর্ণ বিনামূল্যে