🔴 অতি বিষধর সাপ Venomous

পাতি কালাচ

Bungarus caeruleus · Common Krait

🚨 উদ্ধার আবেদন জানান 📞 জরুরি হটলাইন: 16263 🏥 অ্যান্টিভেনম হাসপাতাল
পাতি কালাচ (Common Krait)
🔴 অতি বিষধর
পাতি কালাচ ছবি 2
পাতি কালাচ ছবি 3
পাতি কালাচ ছবি 4

এক নজরে পরিচিতি

বিষের ধরন মারাত্মক বিষধর
বৈজ্ঞানিক নাম Bungarus caeruleus
ইংরেজি নাম Common Krait
প্রধান বাসস্থান জলাশয় ও এর আশপাশ, ভেজা-স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ, ঘাসযুক্ত মাঠ, চাষের জমি ও বসতবাড়ি।

বিবরণ ও পরিচিতি

এদের প্রধান খাদ্য সাপ৷ এটি একটি মাংসাশী প্রাণী এবং ক্রেইটদের প্রিয় খাবার হচ্ছে অন্য প্রজাতির সাপ। সেটা বিষধর হোক বা অ-বিষধর। এইজন্য এদের Ophiophagus/অফিওফাগাস বলা হয়। তবে নিজ প্রজাতির সাপও এদের খাদ্য তালিকায় আছে। স্ব-গোত্রীয় তুলনামূলক ছোট সাপ গুলো বড় সাপেদের পছন্দের খাবার। তবে অনেক সময় বাসা বাড়িতে ঢুকে ছোট পাখি, পাখির ডিম, মুরগির ডিম, বাচ্চা এবং ছোট ছোট প্রাণী যেমন ইঁদুর, ব্যাঙ, টিকটিকি, গিরগিটি, মাছ ইত্যাদি খেয়ে থাকে। অপ্রাপ্তবয়স্ক বা জুভেনাইল রা কীট-পতঙ্গ, মাকড়সা ইত্যাদি খেয়ে থাকে। কমন ক্রেইট জলাশয় ও তার আশে পাশে থাকতে পছন্দ করে। ভেজা-স্যাতস্যাতে পরিবেশ, ঘাসযুক্ত মাঠ, চাষের জমি, বসতবাড়িতে এদের দেখতে পাওয়া যায়। রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল,ঢাকা ও রংপুর বিভাগের একাংশে এদের দেখা যায়। সিলেট আর চট্টগ্রাম বিভাগে কমন ক্রেইট পাওয়া যায় না। আবার চট্টগ্রাম ও সিলেটের পাহাড়ি অঞ্চল ব্যতীত সারাদেশেই ওয়ালস ক্রেইট পাওয়া যায়। এদের দেহের রঙ কালো, কালচে বাদামি, এবং নীলচে কালো বর্ণের হয়ে থাকে। কালো শরীরের উপরে জোড়ায় জোড়ায় সাদা ব্যান্ড/রিং দেখে এদেরকে চেনা যায়। ঘাড়ের কিছু অংশ পর থেকে, জোড়ায় জোড়ায় সাদা ব্যান্ড লক্ষ্য করা যায়, যা একদম লেজের শেষ ভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত। কমন ক্রেইটের ক্ষেত্রে রিং দুটি যুক্ত অবস্থায় কাছাকাছি থাকে এবং তুলনামূলকভাবে রিং গুলোর মধ্যে ২:২ দূরত্বে অবস্থান করে ২টা বাই ২ টা। অপরদিকে ওয়ালস ক্রেইটের রিংগুলো একটা আরেকটা থেকে আলাদা অবস্থায় থাকে এবং একটা রিং থেকে আরেকটা রিং এর দূরত্ব ১:১ ভাবে থাকে মানে ১টা বাই ১ টা। এদের ঘাড় থেকে সাদা ফোঁটা ফোঁটা দাগ রয়েছে। এদের শরীরে ব্যান্ডের উপরিভাগ তথা শির-দাড়ার ওপর দিয়ে ফোটা-ফোটা বিন্দু লক্ষ্য করা যায়। জোড়া ব্যান্ডগুলো দেহের মধ্যভাগ থেকে অধিক স্পষ্ট হয় এবং লেজের শেষ ভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। ওয়ালস ক্রেইটের শির-দাড়া উঁচু হয়, কমনের ক্ষেত্রে যেটা দেহের সাথে মিশে থাকে। চোখ কুচকুচে কালো। এদের দেহের নীচের অংশ (মুখ এবং পেট এর নীচে) সাদা বর্ণের। আশেঁর উজ্জলতা কমন ক্রেইটের তুলনায় ওয়ালস ক্রেইটের বেশি হয়। অপরদিকে কমন ক্রেইটের ঘাড় ওয়ালস ক্রেইটের তুলনায় খানিকটা চিকন হয়। এদের পৃষ্ঠীয় মেরুদন্ডীয় আঁশ অন্যান্য ক্রেইট প্রজাতির সাপের মতই ‘হেক্সাগোনাল’ আকৃতির। কিন্তু ওয়ালস ক্রেইটের দেহ ত্রিভুজাকৃতির হয় আর কমন ক্রেইটের দেহ গোলগাল হয়। দুটো সাপের ক্ষেত্রেই মাথার আকৃতি অবিকল এক হলেও ওয়ালস ক্রেইটের মাথা কমন ক্রেইটের তুলনায় একটু বেশি চওড়া হয়। অন্যান্য ক্রেইটের ন্যায় এরাও নিশাচর, রাতে শিকার এবং চলাচল করে। ক্রেইট প্রজাতির সকল সাপ ই প্রচন্ড রকমের শক্তিশালী হয়। সকল প্রজাতির ক্রেইট সাপই নিশাচর। এরা দিনের তুলনায় রাতে বেশী সক্রিয় থাকে। মূলত রাতেই এরা শিকারের সন্ধানে বের হয় আর এই সময়ই মানুষের সাথে এদের বেশী সংঘাত ঘটে। কখনো দিনের আলো চোখে পড়লে এরা নিজেদের শরীরে মাথা গুজে রাখে। কালাচ অত্যন্ত ক্ষীপ্র এবং তীব্র বিষধর সাপ৷ দক্ষিণ এশিয়ায় প্রাপ্ত সাপগুলোর মধ্যে, এদেরকেই সবচেয়ে বিষধর হিসেবে ধরা হয়৷ এদের নিয়ে একটি কথা প্রচলিত আছে, ‘এরা মানুষের ঘামের গন্ধে এসে কামড়ায়’। যদিও এটা সম্পুর্ণ ভিত্তিহীন কথা। শীতের সময়ে এরা উষ্ণতার খোঁজে কিংবা শিকার করার জন্য অনেক সময় মানুষের বিছানায় উঠে পরে। তখন ভুলবশত এদের গায়ে আঘাত লাগলে কিংবা নড়াচড়া করার ফলে, এরা শিকার ভেবে কামড় দেয়।

চেনার উপায় ও শারীরিক বৈশিষ্ট্য

অঞ্চলভেদে এদের কালাচ, কেউটে, কালাজ, কালান্তর, কালান্তরা, কালচিতি, ডোমনাচিতি, শাহ কানন, শিয়রচাঁদা, নিয়রচাঁদা, শাঁখাচিতি, চামরকোষা, ঘামচাটা নামে ডাকা হয়। এদের বিষ মূলত Neurotoxin-নিউরোটক্সিন (যা প্রি-সিন্যাপটিক এবং পোস্ট-সিন্যাপটিক স্নায়ুসমূহে আঘাত হানে)। Deadly Venomous / প্রাণঘাতী বিষধর। উল্লেখ্য: সকল ক্রেইটই Neurotoxin বিষ সমৃদ্ধ।

বাসস্থান ও স্বভাব

বাসস্থান: জলাশয় ও এর আশপাশ, ভেজা-স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ, ঘাসযুক্ত মাঠ, চাষের জমি ও বসতবাড়ি।

স্বভাব: নিশাচর প্রকৃতির এবং অত্যন্ত বিষধর; শীতের দিনে উষ্ণতার জন্য বিছানায় উঠে পড়ে এবং অসাবধানতায় কামড় দেয়।

⚠️ সাপে কামড়ালে জরুরি করণীয় ও বর্জনীয়

  • শান্ত থাকুন: আতঙ্কিত হবেন না, হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখলে বিষ সহজে ছড়ায় না।
  • অঙ্গ নিশ্চল রাখুন: কামড়ের স্থান বা হাত-পা নাড়াচাড়া করবেন না। স্প্লিন্ট দিয়ে স্থির করুন।
  • টাইট বাঁধন দেবেন না: দড়ি বা তার দিয়ে শক্ত গিট দেবেন না, এতে অঙ্গ পচে যেতে পারে।
  • কাটাকাটি নিষেধ: কামড়ের স্থানে ব্লেড বা ছুরি দিয়ে রক্তপাত করাবেন না।
  • ওঝার কাছে যাবেন না: অবিলম্বে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা সদর হাসপাতালে যান।
সম্পূর্ণ ফার্স্ট এইড গাইড পড়ুন →

চিকিৎসা ও অ্যান্টিভেনম তথ্য

ও চিকিৎসা: বিষ দাঁত ছোট ও সুক্ষ হওয়ায় এদের কামড়ের দাগ স্পষ্ট বোঝা যায় না এবং কামড়ের স্থানে ব্যাথা অনুভূত হয় না, কোনও জ্বালা-যন্ত্রণাও থাকে না।
সাপ ও বন্যপ্রাণী - রেসকিউ বিডি
Google Play Google Play থেকে ফ্রি নামান ★ ৪.৯ রেটিং • সম্পূর্ণ বিনামূল্যে