🟢 সম্পূর্ণ নির্বিষ Non-Venomous

ব্রাক্ষনী দুমুখো সাপ / পুয়ে সাপ

Indotyphlops Braminus · Brahminy Blind Snake

🚨 উদ্ধার আবেদন জানান 📞 জরুরি হটলাইন: 16263 🏥 অ্যান্টিভেনম হাসপাতাল
ব্রাক্ষনী দুমুখো সাপ / পুয়ে সাপ (Brahminy Blind Snake)
🟢 সম্পূর্ণ নির্বিষ
ব্রাক্ষনী দুমুখো সাপ / পুয়ে সাপ ছবি 2
ব্রাক্ষনী দুমুখো সাপ / পুয়ে সাপ ছবি 3

এক নজরে পরিচিতি

বিষের ধরন সম্পূর্ণ নির্বিষ
বৈজ্ঞানিক নাম Indotyphlops Braminus
ইংরেজি নাম Brahminy Blind Snake
প্রধান বাসস্থান ফুলের টব, স্যাঁতসেঁতে নরম মাটি, জঞ্জাল ও মাটির স্তূপ।

বিবরণ ও পরিচিতি

আফ্রিকা এবং এশিয়ায় এদের আদি নিবাস। ভারতীয় উপমহাদেশ সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে সহসা-ই এদের দেখতে পাওয়া যায়। তবে অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা এবং ওশেনিয়া সহ বিশ্বের অনেক অংশে এর বিভিন্ন প্রজাতি পাওয়া যায়। অর্থাৎ গ্রীষ্ণমন্ডলীয় দেশ গুলোতে এ সাপের বিস্তৃতি বেশি। এছাড়াও সমুদ্রতল থেকে ৬৫০-১০০০ মিটার পর্যন্ত উঁচুতেও এদের দেখা যায়। ব্রাহ্মিনী ব্লাইন্ড স্নেক একমাত্র সাপ, যেটা এন্টার্কটিকা বাদে বিশ্বের সব মহাদেশেই পাওয়া যায়। বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলেই কম-বেশি এদের পাওয়া যায়। সাধারণত, গ্রাম অঞ্চল এবং ক্ষেত খামারে বেশি দেখতে পাওয়া যায়। তবে শহুরে এবং কৃষি এলাকায়ও আনাগোনা করে। পুঁয়ে সাপ জীবনের বেশিরভাগ সময়ই মাটির নিচে বাস করে। ভেজা মাটি, রেইনফরেস্ট, চাষের খেত এদের পছন্দের আসাবস্থল। অনেক সময় বৃষ্টির পর মাটির উপরে উঠে আসে। এছাড়া এরা ফুলের টব, স্যাতস্যাতে মাটি, জঞ্জাল, মাটির স্তুপে, পিপড়া ও উইঁয়ের বাসা, কাটা গাছের গুঁড়িতে, পঁচা পাতার নিচে, ইটের নিচে, ভেজা মাটিতে মিশে যাওয়া দালানকোঠার ফাঁকে ও মাটির হিউমাসের নিচে জীবন অতিবাহিত করে। এরা সাধারণত অন্ধকার জায়গায় থাকতে পছন্দ করে, আলো দেখলেই লুকিয়ে পরে। এদের জীবন অনেকটাই মাটির আর্দ্রতার উপর নির্ভর করে। ব্রাহ্মণী দুমুখো সাপ দেখতে কেঁচোর মতো হলেও, এদের নলাকার শরীর কেঁচোর মতো খণ্ড খণ্ড থাকে না। এরা সাধারনত দৈর্ঘ্যে ১০ থেকে ১৭ সেন্টিমিটার হয়। সর্বোচ্চ ২৩ সে.মি. পর্যন্ত হতে পারে। নবজাতক প্রায় ৫ সে.মি. হয়। এদের ত্বক চকচকে রুপালি ধূসর বর্ণের হয়ে থাকে; আবার হালকা লালচে বাদামিও হতে পারে। দেহের উপরের দিক লালচে বাদামি আর নিচের দিক হালকা রঙের। এদের মাথা ও ঘাড় পৃথক নয়। এদের চক্ষু ছোট বিন্দুর মতো এবং আলোকসংবেদী। ব্রাহ্মণী দুমুখো সাপ নিশাচর (Nocturnal) অর্থাৎ এরা সাধারণত রাতে চলাচল এবং শিকার করে। সাধারণত মাটির নিচে থাকতে পছন্দ করে।

চেনার উপায় ও শারীরিক বৈশিষ্ট্য

কেঁচো সাপ, আতাল কুইচ্ছা, আদল কেইচ্চা, দুমুখো সাপ, মাটি সাপ, তেলি সাপ, অন্ধ সাপ, বামন সাপ, ছোট সুতানলী সাপ, কাঁনা সাপ, তেলিয়া সাপ ইত্যাদি। এদের মাথা ও লেজ দেখতে প্রায় একই রকম লাগায় এদেরকে দুমুখো সাপ বলা হয়। এই সাপের চোখের কার্যকারিতা খুব কম যার ফলে নামকরণ হয়েছে blind snake বা অন্ধ সাপ। এর বাসস্থানের কারণে ইংরেজরা একে ফ্লাওয়ার পট সাপও বলে। Non-venomous/নির্বিষ। পুঁয়ে সাপের প্রধান খাদ্য পিঁপড়া ও ছোট উইপোকা। এছাড়া পিঁপড়ার ডিম ও লার্ভা, পিউপা এবং বিভিন্ন প্রজাতির অমেরুদণ্ডী প্রাণী ইত্যাদি খেয়ে থাকে।

বাসস্থান ও স্বভাব

বাসস্থান: ফুলের টব, স্যাঁতসেঁতে নরম মাটি, জঞ্জাল ও মাটির স্তূপ।

স্বভাব: নিশাচর; আলো দেখলেই লুকিয়ে পড়ে এবং পুরুষ ছাড়াই পার্থেনোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় বংশবৃদ্ধি করে।

⚠️ সাপে কামড়ালে জরুরি করণীয় ও বর্জনীয়

  • শান্ত থাকুন: আতঙ্কিত হবেন না, হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখলে বিষ সহজে ছড়ায় না।
  • অঙ্গ নিশ্চল রাখুন: কামড়ের স্থান বা হাত-পা নাড়াচাড়া করবেন না। স্প্লিন্ট দিয়ে স্থির করুন।
  • টাইট বাঁধন দেবেন না: দড়ি বা তার দিয়ে শক্ত গিট দেবেন না, এতে অঙ্গ পচে যেতে পারে।
  • কাটাকাটি নিষেধ: কামড়ের স্থানে ব্লেড বা ছুরি দিয়ে রক্তপাত করাবেন না।
  • ওঝার কাছে যাবেন না: অবিলম্বে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা সদর হাসপাতালে যান।
সম্পূর্ণ ফার্স্ট এইড গাইড পড়ুন →
সাপ ও বন্যপ্রাণী - রেসকিউ বিডি
Google Play Google Play থেকে ফ্রি নামান ★ ৪.৯ রেটিং • সম্পূর্ণ বিনামূল্যে