বিবরণ ও পরিচিতি
Siebold's water snake সাধারণত গাঢ় জলপাই সবুজ এবং বাদামী রঙের সংমিশ্রণে হয়ে থাকে। গাঢ় জলপাই সবুজ রংয়ের দেহের উপর বাদামী বর্ণের অসম এবং অপূর্ণাঙ্গ ব্যন্ড দেখা যায়। ঘাড় থেকে পূর্ণাঙ্গ ব্যান্ড শুরু হলেও কিছুটা নিচ থেকে ব্যান্ডের অপূর্ণতা চোখে পরে। এদের ব্যান্ড গুলো দেহের পাশের দিকে পিঠের তুলনায় বেশ মোটা হয়। এমন রংয়ের ফলে এরা খুব সহজে প্রকৃতিতে মিশে গিয়ে ছদ্মবেশে শিকার করতে পারে। এদের দেহ মাথা এবং লেজের তুলনায় কিছুটা মোটা। লেজের দিকটা হঠাৎ করে শেষ হয়ে গেছে। মাথা চারকোনা আকৃতির এবং ঘাড় থেকে কিছুটা পৃথক হয়ে চ্যাপ্টা আকার ধারণ করেছে। দেহের তুলনায় মাথা ছোট হয়ে থাকে। চোখ ছোট এবং চোখের মনি উলম্বভাবে (Vertically) উপবৃত্তাকার (Elliptical)। তারা রন্ধ্রের এমন আকৃতির ফলে এরা সময় নিয়ে ধীরে ধীরে শিকারের কাছে গিয়ে শিকারকে নিখুঁত ভাবে পর্যবেক্ষণ করে হঠাৎ আক্রমণ করে শিকার কিছু বুঝে ওঠার আগেই। এই পদ্ধতিতে অ্যাম্বুস হান্টিং বলে। এই সাপগুলো আমাদের দেশে প্রাপ্ত বেশিরভাগ সাপের মতো ডিম দেয়না, ফিমেল সাপ সরাসরি বাচ্চা প্রসব করে। যার ফলে এদেরকে viviparous বা জরায়ুজ সাপ বলা হয়। ফিমেল সাপ ৭টি পর্যন্ত ভ্রূণ বহন করে এবং বর্ষা মাসে সন্তান প্রসব করে। এদের ventral area বা পেটের অংশ হলুদাভ হয় এবং dorsal scales বা পিঠের আঁশ চকচকে মসৃণ (Glossy smooth scale). এরা মাঝারি আকারের সাপ, লম্বায় ২ থেকে ২.৫ ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে। Siebold's water snake তার অদ্ভুত রং এর প্যাটার্ণের জন্য অজগর সাপের বাচ্চা এবং বালু বোরা সাপের সাথে অনেকটা মিলে যায়। অনেকেই এই সাপকে অজগর এবং বালুবোরার থেকে পার্থক্য করতে পারেনা। এই সাপের আচরণ একটু রাগী এবং ভয় পেলে কুন্ডলী পাকিয়ে লুকানোর চেষ্টা করে। বেশি বিরক্ত বোধ করলে কামড়ে দিতে পারে।